আর্মেনিয়াকে এরদোয়ানের ‘অফার’

A handout picture taken and released on December 10, 2020 by the Turkish presidential press service shows Turkish President Recep Tayyip Erdogan attending a military parade marking Azerbaijan's victory against Armenia in their conflict for control over the disputed Nagorno-Karabakh region, in Baku. (Photo by Mustafa Kamaci / TURKISH PRESIDENTIAL PRESS SERVICE / AFP) / RESTRICTED TO EDITORIAL USE - MANDATORY CREDIT "AFP PHOTO / Turkish presidential press service / Mustafa KAMACI " - NO MARKETING - NO ADVERTISING CAMPAIGNS - DISTRIBUTED AS A SERVICE TO CLIENTS

ফাতেহ ডেস্ক:

নাগর্নো-কারাবাখ যুদ্ধে আজারবাইজানের বিজয় উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত সেনা প্যারেডে যোগ দিয়েছেন উচ্ছ্বসিত তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। এ সময় যুদ্ধে পরাজিত আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সরকারের পরিবর্তনও চাইলেন তিনি।

রয়টার্স, এপি ও এএফপির বারত দিয়ে ডয়চে ভেলে জানায়, এদিন রজব তাইয়্যেব এরদোগান আশা প্রকাশ করে বলেন, আর্মেনীয়রা বর্তমান ব্যর্থ নেতৃত্বের বোঝা থেকে মুক্তি পাবেন। এই নেতারাই এতদিন তাদের মিথ্যা বলেছেন, দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আর্মেনিয়ায় নতুন সরকার এলে এবং কিছু শর্ত মানলে আজারিদের সঙ্গে তারা আঞ্চলিক সহযোগিতায় সম্পৃক্ত হতে পারবে। দেশটির সঙ্গে থাকা তুর্কি সীমান্তও খুলে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে রাশিয়া, আজারবাইজান, ইরান ও জর্জিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে এরদোগান বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তাতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে যুক্ত হতে পারে আর্মেনিয়াও।

আর্মেনীয় সেনারা যুদ্ধাপরাধ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহর, গ্রাম, মসজিদ ধ্বংস ও বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য তাদের বিচারের সম্মুখীন করা উচিত।

তবে আর্মেনীয় সেনাদের দাবি, এসব আজারিদের আক্রমণে ধ্বংস হয়েছে।

বিজয় উৎসবকে ‘অসাধারণ’ আখ্যায়িত করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আজারিরা নিজ ভূমি ফিরে পেলেও সংঘাত শেষ হয়ে যায়নি। এতদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাত এবার অন্য ফ্রন্টে হবে।

আজারবাইজানের এ বিজয় উৎসবের সেনা প্যারেডে তুর্কি ড্রোনও ছিল, যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে বিজয় এনে দিয়েছে বাকুকে। এ যুদ্ধে তুর্কি জাতিভুক্ত আজারিদের সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছে তুরস্ক।

এদিকে, ভূমি হারানোর পরও চুক্তি করে পরাজয় মেনে নেয়ায় আর্মেনিয়ায় দানাবাঁধা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনসহ রাজধানী প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। তবে তাদের দাবি নাকচ করে আপাতত ক্ষমতা না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন পাশিনিয়ান।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর আর্মেনিয়ার সঙ্গে আজারবাইজানের শুরু হওয়া যুদ্ধ রাশিয়ার মধ্যস্থতায় এক শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে ১০ নভেম্বর সমাপ্তি ঘটে। এ সংঘাতে ৫ হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

এ চুক্তির আওতায় আজারিদের দখল করা বিশাল এলাকাসহ ১৯৯০ সাল থেকে দখলে রাখা মোট ৬টি জেলা ছাড়তে বাধ্য হয় আর্মেনিয়া। সেখানকার লোকজন আর্মেনিয়ায় চলে যাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ নেয় আজারি সেনারা। পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করতে কারাবাখে মোতায়েন রয়েছে রাশিয়া ও তুরস্কের সেনা।

যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমে মস্কোর মধ্যস্থতায় দুই দফা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৃতীয় দফা যুদ্ধবিরতিতে দেশ দুটি সম্মত হলেও তা ব্যর্থ হয়। অঞ্চলটি নিয়ে ৯০-এর দশকে যুদ্ধে জড়িয়েছিল আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অঞ্চলটি আজারবাইজানের।

আগের সংবাদদেশে চলছে আওয়ামী ও করোনা দুর্যোগ: রিজভী
পরবর্তি সংবাদতুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন প্রত্যাখ্যান