ফাতেহ ডেস্ক :
আলিয়া মাদরাসার দাখিল নবম-দশম শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস বইয়ে বেশ কয়েকজন সাহাবিকে নিয়ে বিদ্বেষ ও বেয়াদবিমূলক কথাবার্তা সন্নিবেশিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই। এবং তা অবিলম্বে সংশোধন করতে শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বইটি ঘেঁটে দেখা যায়, কাতিবে ওহি হজরত মুআবিয়া (রা.) ও হজরত আমর ইবনুল আস (রা.) সম্পর্কে বেশ কয়েক জায়গায় বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছে। তাঁদের চরিত্রহনন করা হয়েছে খুবই নির্মম শব্দে। এক জায়গায় উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) সম্পর্কেও বিষোদগার করা হয়েছে। যা শরীয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত কাজ।
পীর সাহেব আরও বলেন, অনতিবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন করা আমাদের সবার ঈমানি দায়িত্ব। রাসূল (সা.) বলেছেন, সাহাবীরা আকাশের তারকার ন্যায়, যে কেউ একজন সাধারণ সাহাবাীকে অনুসরণ করলেও সে জান্নাতী। সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে কুরআনের আয়াতে আল্লাহ বলেন, আমি সাহাবীদের উপর খুশি, তারাও (সাহাবীরা) আমার উপর খুশি। সাহাবায়ে কেরাম হচ্ছেন সত্যের মাপকাঠি। কোনোভাবেই তাঁদের সমালোচনা করা যাবে না। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের ঐক্যমত এটার ওপরেই।
উল্লেখ্য, বইটির ১৪৯, ১৫১, ১৫২, ১৫৩ ও ১৫৪ নং পৃষ্ঠায় হজরত মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ‘স্বার্থান্বেষী, ‘সম্পদলোভী’, ‘ক্ষমতালোভী’ ‘উচ্চাভিলাষী’ ‘স্বার্থপর’ ‘ঔদ্ধত’ ‘জঙ্গি মনোভাবাপন্ন’ ‘চক্রান্তকারী’ ‘পরিস্থিতি ঘোলাটেকারী’ ‘অপরাজনীতিবিদ’ ‘ভোজবাজ’ ও ‘নিকৃষ্টতম শঠ’ বলা হয়েছে। ঠিক এই বিশেষণগুলোই তাঁর সম্পর্কে এ বইয়ে প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া যেখানে অন্য সাহাবির নামের পর ‘রাদি.’ দুআ এসেছে, সেখানে সতর্কতার সঙ্গে মুআবিয়া রাদি.-এর নামের পর ‘রাদি.’ ব্যবহার করা হয়নি।
এর পাশাপাশি আলোচিত পৃষ্ঠাগুলোর নানা স্থানে হযরত আমর ইবনুল আস রাদি.-কে ‘ছলচাতুরিকারী’ ‘চক্রান্তকারী’ ‘ধূর্ত’ ‘হঠকারী’ ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘কপট’ বলা হয়েছে। যখনই তাঁর নাম এসেছে, সঙ্গে সঙ্গে বিশ্লেষণ হিসেবে ‘ধূর্ত’ শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে, নির্মমভাবে। তাঁর নামের সঙ্গেও ‘রাদি.’ দুআ বর্জন করা হয়েছে।
বইটির ১৪৯ নং পৃষ্ঠায় জঙ্গে জামালের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, হযরত আয়েশা রাদি. হযরত আলি রাদি. এর প্রতি পূর্বশত্রুতা ও পূর্ববিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব থেকে এই যুদ্ধ বাঁধিয়েছেন।
