আল জাজিরার স্পর্শকাতর প্রতিবেদন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

ফাতেহ ডেস্ক:

কাতার-ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরায় প্রচারিত ‘অল দ্যা প্রাইমমিনিস্টার’স ম্যান’ শিরোনামের রিপোর্টটি অসত্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করে প্রত্যাখ্যান করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এমনটাই জানানো হয়েছে।

প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, এই সংবাদের সোর্স ডেভিড বার্গম্যান, যিনি একজন আন্তর্জাতিক অপরাধী ও মানসিক বিকারগ্রস্ত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচারে দায়ে যাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল। উগ্রসংগঠন জামায়াতে ইসলামের প্রপাগান্ডার অংশ হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করেছেন, যাতে সত্যের লেশমাত্র নেই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, জামায়াতে ইসলামীর পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েকজন দণ্ডিত পলাতক আসামি এবং নিন্দিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারের সঙ্গে প্রতিবেদনটি মিলে যায়। সংগঠনটি বহুবার আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী দল এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছে, বিশেষ করে আল জাজিরার সঙ্গে…

‘উগ্রপন্থী এবং তাদের লন্ডন ও অন্য জায়গায় তৎপর মিত্রদের মাধ্যমে প্ররোচিত এই মরিয়া অপপ্রচার প্রত্যাখ্যান করছে বাংলাদেশ সরকার। আফসোস এটা যে, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে অপপ্রচারকারীদের বিষাক্ত রাজনৈতিক নকশার একটি অস্ত্র হতে নিজেকে সঁপে দিয়েছে আল জাজিরা’—বলা হয় বিবৃতিতে।

সোমবার আলজাজিরায় প্রচারিত ওই দীর্ঘ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোন নজরদারী করার প্রযুক্তি ইসরায়েল থেকে আমদানি করেছে। পিকসিক্স নামের একটি ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই যন্ত্র দিয়ে ওয়াই-ফাই, সেলুলার এবং ভিডিও নজরদারী করা হয়। ২০১৯ সালে পূর্ব ইউরোপীয় দেশ হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের কাছে দু’জন ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর চারজন বাংলাদেশী গোয়েন্দাকে প্রশিক্ষণ দেয়।

আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক দল যেসব দলিল সংগ্রহ করেছে, তার মধ্যে নজরদারী করার প্রযুক্তি ক্রয় করার একটি কন্ট্রাক্ট আছে, যেখানে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৮ই জুন, ২০১৮। এই চুক্তিতে সই করা হয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ডিফেন্স পারচেসেস (ডিজিডিপি)-এর পক্ষ থেকে। ডিজিডিপি সামরিক বাহিনীর একটি সংস্থা, যেটি বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করার দায়িত্ব পালন করে থাকে। তবে ইসরালের সঙ্গে ব্যবসার আরও তথ্য আসে বুদাপেস্টে বসবাসরত একজন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। তাকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে পুরো সময় দেখানো হলেও, তিনি একটি ছদ্মনাম ‘স্যামি’ ব্যবহার করেন।

তবে বিবিসি বাংলা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আবদুল মোমেন-এর কাছে প্রশ্ন করলে তিনি ইসরাইল থেকে সরঞ্জাম ক্রয়ের কথা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

আগের সংবাদদেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্তর দাবি গণস্বাস্থ্যর
পরবর্তি সংবাদজনতার স্বার্থেই তুরস্কের সংবিধান সংস্কার হওয়া জরুরি: এরদোগান