
মুজিব হাসান :
দেশ ও জাতির সামাজিক এবং মানবিক সেবাপ্রদানে এক বৃহৎ ও মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হল ‘ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন’। একটি সামাজিক ও দীনি সেবামূলক সংগঠন। একঝাঁক নিষ্ঠাবান কর্মপরায়ণ আলেম এর উদ্যোক্তা। যাদের মিশন— সমাজের অগণিত অপরিস্ফুট প্রতিভা যারা সুযোগের অভাবে নিজেদের বিকশিত করতে পারছে না, তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেয়া।
যেমন— উঠতি বয়সী এমন অনেক মেধা আছে, যাদের কেউ লেখক হতে আগ্রহী, কেউ আলোচক, কেউ সাংবাদিক; আবার এমন অনেক মেধাবী ছাত্র আছে, যারা সুযোগ খোঁজে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবার, কিন্তু যোগাযোগ এবং জানাশোনা না থাকায় কিছুই করে উঠতে পারে না। এমন সব স্বপ্নবান প্রতিভাকে সঠিক কক্ষপথে উঠিয়ে দেয়া। বন্যা, শীত বা শুধু ঈদভিত্তিক সেবা নয়, তারা পরিকল্পিতভাবে সামাজিক ও মানবিক সেবায় নিয়োজিত থাকতে চায়। দাঁড়াতে চায় সকল ধর্ম-মতের অসহায়দের পাশে। অবহেলিত অঞ্চলগুলোতে সাধ্যানুযায়ী অবদান রাখতে চায়। জাতির মাঝে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়— উলামায়ে কেরামই জাতির যোগ্য রাহবার।
তাদের এ মিশনের আরো কিছু মৌলিক বিষয়—
* ইসলাম, দেশ, মানবতাবিরোধী ও সামাজিক-চারিত্রিক অবক্ষয়মূলক সকল কর্মকান্ডের প্রতিবাদে কার্যকরী শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
* যৌনহয়রানি, মাদক, শিশু নির্যাতন, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান করা।
* সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু, অভিভাবকহীন নারী ও বৃদ্ধ, সর্বহারা পরিবার এবং অসহায় এতিমদের চিকিৎকসাসহ যাবতীয় সহায়তা ও সেবা প্রদান করা।
* প্রতিভা বিকাশে সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
* উপযুক্ত, অভিজ্ঞ ও চিন্তাশীল আলেম এবং সুস্থ চিন্তাধারার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে লেখক, ওয়ায়েজ, শিক্ষক, ছাত্র ও ছাত্র রাজনীতিকদের তরবিয়ত এবং কর্মশালার আয়োজন করা।
* রাষ্ট্রীয় ও ইসলামিক বিশেষ দিন ও ইস্যুতে সৃজনশীল প্রোগ্রামের আয়োজন করা।
* পর্যায়ক্রমে সকল জেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের নিয়ে ‘হৃদ্যতার সংলাপ’ আয়োজন করা।
* আত্মমর্যাদাশীল গরিব আলেম পরিবারের খোঁজে সফর করা এবং গোপনে সহায়তা প্রদান করা।
* উলামায়ে কেরামের ঐক্যের লক্ষ্যে কার্যকরী প্রোগ্রাম ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
* বছরে এক বা একাধিক আলোচনা সভা, সেমিনার, মতবিনিময় সভা ও ইসলামি মহাসম্মেলনের আয়োজন করা।
সব মিলিয়ে— নিপীড়িত, হতদরিদ্র মানবতা এবং লোকচক্ষু আড়ালে থাকা প্রতিভা ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিত্বের পাশে দাঁড়ানো তাদের লক্ষ। একে সামনে রেখেই তাদের আত্মপ্রকাশ এবং পথচলা। এ পথচলায় যদিও অনেক প্রতিকূলতা রয়েছে, তবুও সবকিছু জেনেবুঝেই তারা সামনে বেড়েছে। ‘একটি উঁচু পাহাড়ে কেউ উঠতে পারেনি, তার মানে এই নয় আমরাও উঠতে পারবো না। কেউ পারেনি বলে আমরা চেষ্টা ছেড়ে দেবো না। আমরা বিশ্বাস করি— আমাদের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা গন্তব্যে পৌঁছুবেই ইনশাআল্লাহ।’ এরকম আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়েই সামনে বাড়ছে ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন।
