
ফাতেহ ডেস্ক :
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে (ইফা) প্রায় এক লাখ কপি কোরআন শরিফ কম ছাপিয়ে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের হিসাব উঠে এসেছে। মহাপরিচালক (ডিজি) কৌশলে ইফা প্রেসের পরিবর্তে বন্ধুর প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে এ অনিয়মটি করার সুযোগ করে দেন।
সিভিল অডিট অধিদফতরের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্যাদেশে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে কমসংখ্যক কোরআনুল কারিম সরবরাহ নেয়ায় সরকারের এক লাখ ৯৪ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাঁচ লাখ ৯৯ হাজার ৬৮০ কপি কোরআনুল কারিম সরবরাহের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রিন্টিং প্রেসকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু প্রেস থেকে পাঁচ লাখ কপি কোরআনুল কারিম সরবরাহ করা হয়। বাকি ৯৯ হাজার ৬৮০ কপি কোরআনুল কারিম সরবরাহ করা হয়নি। অথচ পাঁচ লাখ ৯৯ হাজার ৬৮০ কপি কোরআনুল কারিম মুদ্রণের বিল বাবদ পুরো ১১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকাই পরিশোধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সারা দেশে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ৮০ হাজার কেন্দ্রে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে স্কুলব্যাগ, ছাতাসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ দেয়া হতো। এ পুরস্কারের অর্থ প্রতিটি জেলায় পাঠিয়ে দেয়া হতো। জেলা পর্যায় থেকে তা ক্রয় করে শিশুদের দেয়া হতো। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হঠাৎ করে এভাবে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রধান কার্যালয় থেকে পুরস্কার হিসেবে কোরআন শরিফ প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়। এরপর ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রিন্টিং প্রেসে ম্যানেজার হিসেবে ইফা ডিজির এক নিকটাত্মীয়কে বদলি করে নিয়ে আসা হয়।
প্রথমে মহাপরিচালক কোরআন শরিফ ছাপানোর জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রিন্টিং প্রেসকে কার্যাদেশ প্রদান করেন। এরপর প্রকল্প দলিলে পুরস্কার হিসেবে রাখা ১১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা প্রেসে স্থানান্তর করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রিন্টিং প্রেস কোরআন শরিফ ছাপানোর উদ্যোগ নিলে ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল তা বন্ধ করে দেন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রেসের পরিবর্তে বাইরের প্রতিষ্ঠানে তা ছাপানোর জন্য প্রেসের পক্ষ থেকে টেন্ডার আহ্বান করেন। টেন্ডারের মাধ্যমে কৌশলে তার বন্ধুর প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেন। ওই প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক লাখ কপি কম ছাপানো হয় এবং এভাবে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
বিষয়টি ধরা পড়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রিন্টিং প্রেসের স্টক রেজিস্টারের কারণে। রেজিস্টারে দেখা যায় কোরআন শরিফ সরবরাহ করা হয়েছে পাঁচ লাখ। আর কার্যাদেশে রয়েছে পাঁচ লাখ ৯৯ হাজার ৬৮০ কপি। অর্থাৎ প্রায় এক লাখ কপি কম ছাপানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইফার ২০০৯-১৮ অর্থবছরের ১০ বছরের এই নিরীক্ষায় ৯৬টি খাতে সর্বমোট ৭৯৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে। তার মধ্যে কোরআন শরিফ মুদ্রণসহ পাঁচটি খাতে ১৬ কোটি ৭০ লাখ চার হাজার টাকা আত্মসাৎ হয়েছে।
প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারিক কর্মকর্তা সামীম মোহাম্মদ আফজাল ২০০৯ সাল থেকে ইফার ডিজির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার সর্বশেষ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হবে।
গত ৯ জুলাই ’১৯ থেকে ১০ অক্টোবর ’১৯ পরিচালিত এ নিরীক্ষার খসড়া রিপোর্টটি গত ২৪ নভেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয়ে এগ্রিড মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও অডিট সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
