ইবতেদায়ি পরীক্ষা নিতে চায় না গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

ফাতেহ ডেস্ক

পঞ্চম শ্রেণির ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা আর নিতে চায় না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। জনবল ও অবকাঠামো সংকটে এ পরীক্ষা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী বছর থেকে এটি কার্যকর হতে পারে।

ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড আয়োজন করে থাকে। এ বোর্ড শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। যেহেতু মাদরাসা বোর্ড আমাদের অধীনে নয়, তবে আমরা কেন তাদের পরীক্ষা আয়োজন করব- এমন প্রশ্ন তুলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মুন্সি শাহাবুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। দ্রুত তাদের চিঠি দেয়া হবে। আগামী বছর থেকে ইবতেদায়ি পরীক্ষা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজন করবে না।

এদিকে, দেশের সব ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনে নামেন ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা। এতে কিছুটা বিপাকে পড়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। দাবি পূরণে এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মৌখিক প্রতিশ্রুতিও দেন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের। এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে সরকারি সিদ্ধান্ত না থাকায় বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি। সারাদেশের ১৮ হাজার ১৯৪টি স্বতন্ত্র মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা ঢাকায় এসে টানা দুই মাসের বেশি আন্দোলন করেন। এ আন্দোলনে প্রায় ৩০০ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন, একজন শিক্ষক মারা গেলেও সরকার আমাদের দাবি মেনে নেয়নি।’

তিনি জানান, সারাদেশে মাত্র এক হাজার ৫১৯টি ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষকরা সর্বসাকুল্যে ২৫০০ টাকা, সরকারী শিক্ষকরা ২৩০০ টাকা ভাতা পান। বাকি প্রায় আট হাজার ৫০০টি মাদরাসার শিক্ষকরা প্রায় ৩৪ বছর ধরে বেতন-ভাতা পান না। এ কারণে তাদের দুর্বিষহ দিন পার করতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পঞ্চম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে ২০০৯ সাল থেকে সমাপনী পরীক্ষা শুরু হলেও ইবতেদায়ি পরীক্ষা চালু হয় ২০১০ সালে। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেয়া হলেও ২০১১ সাল থেকে ইবতেদায়ি পরীক্ষার গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল ও পরীক্ষার সময় আধাঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) এর আয়োজন করে থাকে। পরীক্ষায় পাসের মাধ্যমে নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়ে থাকে। পাশাপাশি ফলাফলের ভিত্তিতে সারাদেশে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বৃত্তিও দেয়া হয়।

আগের সংবাদকাশ্মীরে সার্চ অপারেশনের সময় পানিতে ডুবে এক ভারতীয় সেনার মৃত্যু
পরবর্তি সংবাদকতটুকু পড়াশোনা করতে পারে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীরা?