ইবারত পড়তে পারে কওমি মাদরাসার কত শতাংশ ছাত্র

|| তাসনিফ আবীদ ||

ইসলাম ধর্মের বিশেষজ্ঞদেরকে বলা হয় আলেম। আর আলেম গড়ার সূতিকাগার বলা হয় কওমি মাদরাসাকে। কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কুরআন-হাদিসকে আত্মস্থ করে আলেম হয়ে জাতির খেদমতে বেরিয়ে পড়েন। তাদের মাধ্যমে সঠিক পথের দিশা পান সাধারণ মানুষ।

সাধারণত আলেম বলা হয় যারা কুরআন-হাদিস পড়লে প্রাঞ্জলভাবে বুঝতে পারেন। বিষয়ভিত্তিক কিতাব ও হাদিসের ইবারতগুলোর মর্ম বুঝে পড়তে পারেন। এবং তা থেকে জ্ঞান অর্জন করে অন্যদের মাঝে বিলাতে পারেন। অর্থাৎ কুরআন হাদিস থেকে জ্ঞান আহরণ করার প্রধান মাধ্যম হলো আরবি ইবারত সঠিকভাবে পড়তে ও বুঝতে পারা। বর্তমান সময়ে কওমি মাদরাসার কত পার্সেন্ট শিক্ষার্থী শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে ইবারত পড়তে পারে? এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম কওমি মাদরাসার বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে।

গবেষণামূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান মুফতি মুফতি এনামুল হক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ঠিক কত শতাংশ শিক্ষার্থী সঠিক ইবারত পড়তে পারে তা বলার আগে আমি আপনাকে জানাতে চাই, আমরা তাখাসসুসের জন্য ছাত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে মুমতাজ এবং জায়্যিদ জিদ্দান ছাড়া ইন্টারভিউ দেওয়ারই সুযোগ দিই না। কিন্তু দেখা যায় তাদের মাঝে সবাই ষোলআনা সঠিকভাবে ইবারত পড়তে পারে না।

‘আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে শুদ্ধ, সুন্দর ও সঠিকভাবে ইবারত পড়তে পাড়ার সংখ্যাটা আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ পাসেন্ট বা কমবেশি হতে পারে। এই সংখ্যাটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।’

রাজধানীর জামিয়া মুহাম্মদিয়া আরাবিয়া মিরপুর-এর সিনিয়র মুফতি ও মুহাদ্দিস মুফতি জাহিদুল ইসলাম জানান, আমার দেখা মতে কওমি শিক্ষার্থীদের মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ পার্সেন্ট শিক্ষার্থী শুদ্ধভাবে ইবারত পড়তে পারে। তিক্ত হলেও এটাই সত্য। সারা বছর মাদরাসায় নানা সময়ে বিভিন্ন ছুটি থাকে। এগুলোকে যদি শিক্ষার্থীরা ইবারত শুদ্ধ করার কাজে লাগায় তবুও ইবারতের দুর্বলদের সংখ্যা কমে আসবে।

কুমিল্লার মাদরাসাতুর রহমানের মুহতামিম মুফতি এরশাদ হুসাইন বলেন, নিচের জামাতের পড়াশোনায় অবহেলাসহ নানা কারণে আমার ধারণা মতে কওমি মাদরাসার প্রায় ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী শুদ্ধভাবে ইবারত পড়তে সক্ষম নয়। আর ইবারত পড়তে না পারার কারণে তারা কুরআন-হাদিসের সঠিক মর্মও বুঝতে পারে না। দ্বীনের সঠিক শিক্ষাও অনুধাবন করতে পারে না।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত জামিয়া কারিমিয়া মাদরাসা নাযেমে তালিমাত মুফতি ইবরাহিম আব্দুল্লাহ’র তথ্য মতে কওমি মাদরাসার ৩০ থেকে ৩৫ পার্সেন্ট শিক্ষার্থী শুদ্ধভাবে ইবারত পড়তে সক্ষম। তবে শুদ্ধ ইবারত পড়তে পারলে এর সঠিক মর্ম বুঝতে পারার সংখ্যাটা আরো কম।

এদিকে নরসিংদী জেলার প্রাচীনতম কওমি মাদরাসা জামিয়া নুরিয়া ইসলামিয়ার মুহাদ্দিস মুফতি নুরুল হকের সঙ্গে কথা হয় বিষয়টি নিয়ে। তিনি বলেন, ঢাকায় ভালো ইবারত পড়তে পারে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কেমন জানিনা। তবে মফস্বলের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এর সংখ্যা খুবই কম। ১৫ থেকে ২০ পার্সেন্ট হতে পারে সংখ্যাটা।

‘অনেক ক্লাসে তো ইবারত শুদ্ধভাবে পড়ার ছাত্র একেবারেই থাকে না। কখনো কখনো শিক্ষকরা নিজেই ইবারত পড়ে পড়া দিয়ে আসতে হয়।’ –যুক্ত করেন তিনি

তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মফস্বলের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ছাত্র গঠনে খুব য্ত্নশীল। তারা নিচের জামাত থেকেই ইবারত পাঠে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ক্লাসের সবাইকে দিয়ে রুটিন করে ইবারত পড়ায়। ওইসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী শুদ্ধভাবে ইবারত পড়তে সক্ষম। বাকি ৩০ শতাংশও ইবারত পড়তে পারে। তবে দুর্বল। কিন্তু এমন যত্নশীল মাদরসার সংখ্যা সারাদেশে হাতেগোনা কয়েকটি।

আগের সংবাদফেনীর ইসলামিক স্থাপনা নিয়ে এত আলোচনার কারণ কী?
পরবর্তি সংবাদএবার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১৫