
ফাতেহ ডেস্ক:
ইরানের পার্লামেন্টের সদস্যরা এমন একটি বিল উপস্থাপন করেছেন, যা দেশটির পরবর্তী সরকারগুলোকে আগামী ২০ বছরের মধ্যে ইসরায়েলকে নিশ্চিহ্ন করতে এবং ওই অঞ্চল থেকে আমেরিকান বাহিনীকে অপসারণের লক্ষ্যে কাজ করতে বাধ্য করবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসনার বরাত দিয়ে আল আরাবিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ‘ইরান রেসিপ্রকেট’ শীর্ষক খসড়া বিলে ১৬টি আর্টিকেল রয়েছে। গত বছর ইরানের কুদস ফোর্স কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি ছিল ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের মিলিশিয়া নেতা আবু মুহান্দিসের মৃত্যুর প্রথম বার্ষিকী। বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে গত বছর মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন তারা। ওই হামলার পর থেকেই আমেরিকা এবং দেশটির এই অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কে উত্তেজনা চলছে।
ইসনার মতে, খসড়া বিলটিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে শর্ত এবং তেহরানের সহযোগীদের সমর্থন করার কথা বলা হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, ইরানের সরকারগুলো এমন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবে, যাতে ‘২০৪১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ইসরায়েলকে নির্মূল’ করা যায় এবং হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি অবরোধ ব্যর্থ করতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিনা মূল্যে বা মূল্যের বিনিময়ে সরবরাহ করতে হবে।
ইরানের বার্তা সংস্থাটি আরো জানিয়েছে যে, বিলটিতে ‘গোলান মালভূমি পুনরুদ্ধার এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের অধিকার’ শীর্ষক নীতির আওতায় ইসরায়েলের সীমান্তে দক্ষিণ লেবানন ও গোলান হাইটসে অর্থায়ন ও জনসমর্থন গড়ার ব্যাপারেও সমর্থন করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়েছে, ভবিষ্যতের ইরানি সরকারগুলোকে প্রতি তিন মাসে একবার ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের ওষুধ, খাদ্য ও জ্বালানিসহ অন্যান্য মানবিক সাহায্য হিসাবে মানবিক সহায়তা পাঠাতে হবে, যাতে তাদের ওপর আরোপিত অবরোধ অকার্যকর করা যায়।
এ ছাড়া অত্র অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীকে হটাতে যাবতীয় প্রচেষ্টা এবং এই অঞ্চলের কোনো দেশ এ ব্যাপারে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হলে শর্তসাপেক্ষে তাও করার কথা বলা হয়েছে।
আবার খসড়া বিলে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের কোনো দেশ ইরানের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়- মার্কিনিদের এমন পদক্ষেপে সমর্থন বা সহায়তা করলে তার দায় তাদেরই বহন করতে হবে।
খসড়া বিলটিতে ইরাক ও সিরিয়ায় আমেরিকান বাহিনীর অবস্থানকে ‘অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়া বিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অপারমাণবিক বিষয় নিয়ে যে কোনো আলোচনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে মার্কিন প্রশাসন কাসেম সোলাইমানি হত্যার নিন্দা না জানানো পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বা বহুপাক্ষিক আলোচনায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিলটিতে ইরানের সরকারগুলোকে রাশিয়া, চীন, সিরিয়া, ইরাক এবং ভেনিজুয়েলার সঙ্গে বাণিজ্য সহজতর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
