আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
গতকাল মঙ্গলবার ইসরাইলি হানাদার বাহিনীর হামলায় শাহাদত বরণ করেছেন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের কমান্ডার বাহা আবু আল-আত্তা। অবরুদ্ধ গাজায় তার বাড়িকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল দখলদার রাষ্ট্রটি। এতে তিনিসহ তার ৪২ বছর বয়সী স্ত্রী আসমাও শাহাদত বরণ করেছেন। আহত হয়েছেন তাদের দুই সন্তানও। গাজার আল-শিফা হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ইসলামিক জিহাদের তথ্যানুসারে, তাদের সামরিক শাখার অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন শহিদ বাহা আবু আল-আত্তা। ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযানে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। হামাসের আল-কাসাম ব্রিগেডসের পরে গাজায় দ্বিতীয় শক্তিশালী সামরিক শাখা হচ্ছে আল-কুদস ব্রিগ্রেডস।
গত এক দশক ধরে ইসরাইলি-মিসরীয় অবরোধে বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকার শাসন করছে হামাস। গত কয়েক বছরে আবু আল-আত্তার ওপর বেশ কয়েকটি ইসরাইলি গুপ্তহত্যার অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। ২০১২ সালের এক অভিযানে তিনি আহত হয়েছিলেন।
আবু আল-আত্তার বাবা বলেন, হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় তার সন্তান সম্প্রতি আত্মগোপনে ছিলেন। গাজায় ২০১৪ সালের ইসরাইলি যুদ্ধের সময় একটি গুপ্তহত্যার চেষ্টা থেকে কোনো রকম বেঁচে যান তিনি।
তখন উত্তর গাজার আল-কুদস ব্রিগেডসের কমান্ডার দানিয়েল মানসুরের সহকারী ছিলেন আল-আত্তা। ওই বছর ৩ আগস্ট ইসরাইলি হামলায় দানিয়েল মানসুর শাহাদত বরণ করেন।
২০১৪ সালে ইসরাইলি হামলায় দুই হাজার ২৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে দেড় হাজার বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এছাড়াও ১১ হাজারের মতো ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আর ইসরাইলের ৬৬ সেনা ও ছয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়।
তবে আবু আল-আত্তাকে হত্যার ঘটনায় প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক জিহাদ। তারা জানায়, আমাদের অপরিহার্য প্রতিশোধে ইহুদিবাদীরা কেঁপে উঠবে।
