উইঘুর মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের ওপর গণহত্যা চালাতে চাইছে চীন!

ফাতেহ ডেস্ক:

উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলিমদের মস্তিষ্কটাই বিকল করে দিতে চাইছে কমিউনিস্ট শাসিত চীন। পাকিস্তানি কায়দায় জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর বুদ্ধিজীবীরা এখন চীনা আক্রমণের মূল লক্ষ্য। তাই জিনজিয়াং থেকে প্রায়শই রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হচ্ছেন বুদ্ধিজীবীরা। বিনা বিচারে ভরা হচ্ছে জেলে। তারপর বিচারের নামে প্রহসনে বাড়ছে বন্দিদশা।

সাধারণ মানুষের মতোই উইঘুর বুদ্ধিজীবীরাও হারিয়ে যাচ্ছেন মূল স্রোত থেকে। যেমন চলচ্চিত্র পরিচালক হারসান হাসান বা অধ্যাপক তাসপোলাত তাইপ। প্রথম জনের ২০ মাসেরও বেশি জেল খাটার পর ৫ সেপ্টেম্বর ১৫ বছর কারাদণ্ড ঘোষিত হলো। আর দ্বিতীয় জন ২০১৭ সাল থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমা সেঁটে দিয়ে বিচারের নামে প্রহসন চালাচ্ছে চীন। বেঘোরে মরছেন উইঘুররা। মানবাধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

প্রথমে আসা যাক হারসান হাসানের প্রসঙ্গে। উইঘুরদের দুর্দশার বড় উদাহরণ এই বছর পঞ্চাশের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের ওপর রাষ্ট্রীয় অত্যাচার। মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। ভাষাতত্ত্ব বিষয় নিয়ে পড়াশুনো করলেও হাসানের জগত ছিল অভিনয়। বাচিক শিল্পী হিসাবে যেমন তার খ্যাতি ছিল, তেমনি ছোট ছোট চলচ্চিত্র পরিচালনাতেও ছিলেন সমান পারদর্শী। তার নিজেরই ছিল চলচ্চিত্র নির্মাণ সংস্থা। ২০১৮ সালের অক্টোবরে চীনের একাধিক সেমিনারেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

চীনা ফিল্ম অ্যাসোসিয়েশন এবং চীনা ফেডারেশন অফ লিটারারি অ্যান্ড আর্ট সার্কেলসের আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশও নিয়েছেন তিনি। উইঘুর বুদ্ধিজীবী হিসাবে সমাজে তার জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষন্বীয়। কিন্তু এহেন হাসানকেই ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চীন সরকার আটক করে। কৌতুক অভিনেতা হিসাবে জনপ্রিয় শিল্পীর গায়ে চাপানো হয় বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমা। তার পরিবারকেও আতঙ্কিত করে তোলা হয়। হাসানকে রাখা হয় জরুরি কক্ষে। বন্দিদশার আগে বেশ শক্তপোক্ত ছিলেন হাসান। কিন্তু জেলে ঢুকতেই ভেঙে পড়ে তার চেহারা।

২০ মাস একরকম বিনা বিচারেই জেলে কাটানোর পর ৪ সেপ্টেম্বর ঘোষিত হাসানের সাজা বিচ্ছিন্নতাবাদী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে খাটতে হবে ১৫ বছরের জেল। একই সঙ্গে তাকে ফাঁসানো হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগেও। তিনি নাকি প্রশিক্ষণ দেবার নামে চীনাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন! আসলে সবই মিথ্যা ও সাজানো মামলা। জিনজিয়াং প্রশাসন এভাবেই তো উইঘুরদের ওপর নির্যাতন চালায়! বিনা বিচারে হাজারো বন্দিদের মধ্যে হাসান একটি উদাহরণ মাত্র।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি উইঘুরদের স্বাভাবিক জীবনধারায় বাঁচতে দিতে নারাজ। তাই তাদের হাজার হাজার মানুষকে মগজ ধোলাইয়ের নামে ভরা হয়েছে তথাকথিত প্রশিক্ষণ শিবিরে। সেখানে নারীদের গায়ের জোরে বন্ধ্যাত্বকরণ চলছে। পুরুষদের খা’টানো হচ্ছে বেগার। কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ইসলাম ধর্ম পালনের সমস্ত অধিকার। উইঘুরদের নীচুতলার মানুষদের থেকে শুরু করে হাসানের মতো শিল্পী-বুদ্ধিজীবীরাও নিস্তার পাচ্ছে না চীনের অমানবিক অত্যাচার থেকে।

অথচ জাতিসংঘের সাধারণ সভায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান শি জিনপিং নিজেই মতাদর্শগত বিরোধে সহমতের কথা বলে এলেন। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ”আদর্শগত বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে সকলকে। তার নিজের দেশেই চলছে উইঘুরদের মুসলিম ধর্ম থেকে বলপূর্বক কমিউনিস্ট মন্ত্রে দীক্ষিত করার সামরিক প্রচেষ্টা। গায়ের জোরে উইঘুরদের ইসলাম ধর্ম বা নিজেদের সংস্কৃতি ত্যাগ করে কমিউনিস্টদের শিক্ষায় এবং শি-র আদর্শে দীক্ষিত করে তোলার মরিয়া চেষ্টা চলছে চীনে।

আগের সংবাদ‘দুশ্চরিত্রা’ বলায় ভিপি নূরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
পরবর্তি সংবাদকরোনায় দেশে ১৩৮ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম মৃত্যু