এনআরসির নামে বাঙালি বিতাড়নের উদ্যোগ অমানবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারত সরকারের এনআরসি ও ভাষানীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রদর্শন করেছে কলকাতার সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবী মহল। তারা ঘোষণা দিয়েছে, এনআরসি এবং সংবিধানের ত্রিভাষা নীতি উপেক্ষা করে হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার পাঁয়তারা মেনে নেওয়া হবে না। এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণাও দেন বুদ্ধিজীবীরা।

কলকাতা প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মী-বুদ্ধিজীবী মঞ্চের ডাকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, আসামে যেভাবে এনআরসির নামে বাঙালি বিতাড়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা একধরনের অমানবিক পদক্ষেপ। অবিলম্বে এনআরসির নামে বাঙালি বিতাড়ন বন্ধ ও এনআরসিতে বাদ যাওয়া সব নাগরিকের নাম তোলার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার যে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সেটির বিরুদ্ধেও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। তাঁরা দাবি করেছেন, সংবিধান অনুযায়ী পুরো ভারতে ত্রিভাষা নীতি কার্যকর করতে হবে। কেবল হিন্দিকে ভারতের রাষ্ট্রভাষা করা যাবে না। কারণ, হিন্দি ভারতের সব জায়গায় ব্যবহৃত হয় না। প্রত্যেক রাজ্যের প্রধান ভাষার ওপর জোর দেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশ নেন কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক অ্যাডভোকেট জেনারেল বিমল চ্যাটার্জি, শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়, ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়, মানবাধিকার সংস্থা এপিডিআরের কর্মী সুজাত ভদ্র, মালবিকা চট্টোপাধ্যায়, পার্থ সারথি সেনগুপ্ত প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত শনিবার হিন্দিকে রাষ্ট্রীয় ভাষা করার কথা বলে ক্ষোভের মুখে পড়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শাসক দল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।

আগের সংবাদখ্রিস্টান না বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই কাজ করতে হবে ভারতীয় এনজিওদের
পরবর্তি সংবাদচীনে আবু ওয়াক্কাস (রা.) নির্মিত প্রাচীন মসজিদ