কমিশন ছাড়া মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া নেয় না হজ অফিস?

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ

ফাতেহ ডেস্ক

কমিশন ছাড়া পবিত্র মক্কা ও মদিনায় কোনো দিনও বাড়িভাড়া নেয় না হজ অফিস। এমন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ। এ বছরও কমিশন নিয়ে সিন্ডিকেট করে বাড়িভাড়া করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসা একটি অডিও আলাপনে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আলাপনে শোনা যায়, রাষ্ট্রদূত মোবাইল/টেলিফোনে মূসার (সৌদি আরবে বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন) কাছে এবার সৌদি আরবে হাজিদের বাড়িভাড়া কে করেছে, এবার ব্যবসাটা কে পেল–তা জানতে চাইছেন।

বিশেষ করে মদিনায় ‘আল আনসারির’ হোটেলের ব্যবসাটা কে পেল- তা তিনি জানতে চান মূসার কাছে। এ সময় মূসা বলেন, এবার হজ অফিস বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে। এ কথা শুনে গোলাম মসিহ বলেন, বাড়ি তো মালিকের কাছ থেকেই ভাড়া নেয়, জানতে চাচ্ছি মাঝখানের লোকগুলো কে, কারা।

এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে মূসা বলেন, এবার মাঝখানে কেউ ছিল না।

এ কথা শুনে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘শোন মূসা, এ কথা আমাকে বলো না, হজ অফিসাররা এত ফেরেশতা নয়, তোমরা এবার সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নিছ, আমি তো খবর পাইয়া যামু। কোন জমানায় ডাইরেক্ট ব্যবসা হইছে! তুমি আমারে কি শিখাইতাছ?’

আলাপনে গোলাম মসিহ আরও বলেন, ‘গতবার পর্যন্ত খালি কমপ্লেইন করছ, আমাকে বাড়িভাড়া নেয় না। এবার তোমরা কেউ বাড়ির ব্যবসা কর নাই? সবাই ফেরেশতা হইয়া গেলা। কোন জমানায় ডাইরেক্ট হইছে? আওয়ামী লীগের নাম ভাঙাইয়া সবাই ধান্ধাবাজি করে।’ এ কথা বলে তিনি লাইন কেটে দেন।

এরপর মূসা কলব্যাক করে আবার তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, বাড়িভাড়ার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এ সময় গোলাম মসিহ বলেন, ‘তুমি বুঝবা না কেন? ২৮ বছর মদিনায় আছ। কোনো দিন কমিশন ছাড়া বাড়িভাড়া নেয় হজ অফিস, আমারে বলো? কোনো দিন কমিশন ছাড়া নিছে। আজকা তোমরা সবাই ফেরেশতা হইয়া গেছ।’

তিনি আবার বলেন, ‘আমার কাছে রিপোর্ট আছে, সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নেয়া হইছে। না হলে আল আনসারির বাড়ি এমনিতেই ভাড়া অইয়া গেছে। তুমি কি মনে করো খবর পামু না? হজ অফিসারের গলা টিইপ্যা বাইর কইরা ফালামু।’ এভাবে চলতে থাকে তাদের কথোপকথন।

হজের বাড়িভাড়া নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি-না, এ ফোনালাপের সূত্র ধরে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হজের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। একটা কমিটি হয়। তারা বাড়িভাড়ার বিষয়গুলো ঠিক করে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি জিজ্ঞেস করতে পারি, কে বাড়িভাড়া নিল বা কে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে? আমি সেটাই জানতে চেয়েছি। তবে যার কাছে জানতে চেয়েছি তিনি নিজেও কিছু জানেন না।

সূত্র : জাগো নিউজ

আগের সংবাদড. ইউনুসকে শ্রম আদালতে তলব
পরবর্তি সংবাদছাত্রীর সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার সময় ধরা পড়লেন এক স্কুলশিক্ষক