
অনুবাদ : ইবাদ বিন সিদ্দিক
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আজকাল পুরো দুনিয়ার মধ্যে করোনা ভাইরাসের আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে যে এটি বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এটাকে ঠেকানো বা তা থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি। কোনো কোনো হযরত মনে করছেন এ ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া তাওয়াক্কুলের খেলাফ বা বিপরীত। এ কথা সঠিক নয়। এমনকি রাসূল সা. আদেশ করেছেন যে, এরকম পরিস্থিতিতে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
রাসূল সা. তায়াউন বা মহামারীর ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন, যখন কোনো জায়গার মধ্যে মহামারী আসে তখন কেউ যেনো বের না হয় এবং বাইরের কেউ যেনো ভেতরে না যায়। এ পরিস্থিতিতে এ ধরনের ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা খোদ শরীয়তেরই চাহিদা। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আমাদের সরকার সুস্থ থাকার লক্ষ্যে যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা পালন করা অবশ্য কর্তব্য। আমাদের ভালোর জন্যই এটা মানা জরুরি। কোনো সরকার যখন কল্যাণকামিতার স্বার্থে কোনো নির্দেশনা দেন তখন তা মেনে চলা আবশ্যকীয়।
বিশেষ করে যেখানে বড় সম্মেলন হয় সেখানে এই ভাইরাসের প্রভাব বা লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি। এরকম কোনো সম্মেলন না করা বা পিছিয়ে দেওয়া উচিত। যেমনি বিয়ে-শাদীর অনুষ্ঠান। মূলত এর জন্য বড় কোন আয়োজন না করে সুন্নত হলো সংক্ষেপে সম্পন্ন করা। যদি বিয়ে করাই লাগে, তাহলে যেনো সংক্ষেপে করা হয়।
জুমা ও অন্যান্য নামাজের জামাতের ক্ষেত্রেও এ বিষয়গুলো যেন লক্ষ্য রাখা হয় যে, সুন্নাত ঘরে আদায় করে মসজিদে আসবে। নামাজ শেষে ঘরে ফিরে পরের সুন্নত আদায় করবে। মসজিদে পড়বে না। বরং সুন্নত ঘরে পড়াই বেশি সওয়াব ও উত্তম। দ্বিতীয় বিষয় হলো অযু ঘরে করে আসবে।
ইমাম সাহেবদের প্রতি কথা হলো, আপনারা জুমা এবং অন্যান্য জামাত সংক্ষেপে পড়াবেন। জরুরতের সময় সংক্ষেপ কেরাত পড়া উত্তম। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা এসেছে যে, যদি ভাইরাস বেশি ছড়িয়ে পড়ে তখন মুসাফাহা থেকে বেঁচে থাকবেন। এরকম নির্দেশনা আসলে এটি মানাও জরুরি। এরকম প্রত্যেক কাজ যা ফরজ বা ওয়াজিব নয় এই মহামারী থেকে বাঁচার লক্ষ্যে তা ত্যাগ করলে কোন সমস্যা নেই। এই কোরোনা ভাইরাসকে গুরুত্ব দেওয়া নিজের জন্য যেমন জরুরি, অন্যের জন্যও উপকারী। যা রাসূল সা. এর নির্দেশনারই মোতাবেক। তার উপর আমাদের আমল করা জরুরি।
