কালো তালিকা থেকে বাঁচা নিয়ে সংকটে পাকিস্তান

ফাতেহ ডেস্ক

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আর্থিক সংস্থা এফএটিএফের কালো তালিকা এড়াতে পারলেও ধূসর তালিকা এড়াতে পারেনি পাকিস্তান। প্যারিসে আজ এফএটিএফের বৈঠকে এই প্রস্তাব নেওয়া হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আগামী শুক্রবার। তবে এপ্রিলের মধ্যে ধূসর তালিকা থেকে বের হতে না পারলে কালো তালিকায় চলে যাবে দেশটি।

একটি অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা জানিয়েছে, প্যারিসের আর্থিক টাস্ক ফোর্সের দ্বারা নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংস্কার ধাক্কা খাবে। এর ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক বাধা সৃষ্টি হবে। সেইসঙ্গে ব্যবসার ক্ষেত্রে পুঁজি আসার ওপর প্রভাব পড়বে। এতে পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। আর এর প্রভাব কিন্তু আইএমএফ-এর উপরেও পড়বে। মঙ্গলবার প্যারিসে বৈঠক করে এফএটিএফের ৩৯ সদস্য। তুরস্ক ও মালয়েশিয়া সমর্থন করে পাকিস্তানকে। কিন্তু বাকি দেশগুলি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানকে ব্যর্থ বলেই দাবি করে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি আদালত লস্কর ই তৈয়েবার প্রতিষ্ঠাতা ও মুম্বাই হামলার মূল হোতা হাফিজ সাঈদকে ১১ বছরের জন্য জেলে পাঠায়। পাক কূটনীতিকেরা আশা করছিলেন, এর পরে ইসলামাবাদ সম্পর্কে মনোভাব বদলাতে পারে এফএটিএফ এবং পাশ্চাত্যের দেশগুলি। এখানেই শেষ নয়, প্যারিসের বৈঠকের আগে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী হামাদ আজহার গত কাল দাবি করেন, জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারকে পাকিস্তানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অনেকেই ভেবেছিলেন, এফএটিএফের বৈঠককে প্রভাবিত করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দাদর কাছে খবর এসেছে, বাহাওয়ালপুরে জইশের সদর দফতরে পরিবারের সঙ্গে বহাল তবিয়তে রয়েছে মাসুদ। তার জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে মাসুদকে নিয়ে পাক মন্ত্রীর এমন বক্তব্য আজকের বৈঠকে দাগ কাটতে পারেনি। কারণ, এফএটিএফের বৈঠকে ধূসর তালিকা থেকে বেরোতে পারেনি পাকিস্তান।

২১ ফেব্রুয়ারি এফএটিএফের চূড়ান্ত বৈঠকে ধূসর তালিকা থেকে বেরিয়ে সাদা তালিকায় আসার জন্য পাকিস্তানকে ৩৯টি ভোটের মধ্যে ১২টি পেতে হবে। কালো তালিকায় পৌঁছনো আটকাতে তিনটি দেশের সমর্থন পেতে হবে ইসলামাবাদকে। ২০১৯ সালের অক্টোবরে এফএটিএফের প্লেনারি বৈঠকে বলা হয়, জঙ্গিদের আর্থিক মদত আটকাতে প্রয়োজনীয় ২৭টি পদক্ষেপের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে সাড়া দিয়েছে পাকিস্তান।

-এ

আগের সংবাদকক্সবাজার সৈকতে উঁচু স্থাপনা নির্মাণ নয়: প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদচুড়িহাট্টায় ক্ষতিপূরণ পায়নি কেউ