
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কাশ্মিরিরা নিজেদের ভারতীয় মনে করে না বলে মন্তব্য করেছেন জম্মু ও কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ। ন্যাশনাল কনফারেন্স পার্টির প্রধান ও চার দশক ধরে জম্মু ও কাশ্মিরে সবচেয়ে পরিচিত ‘ভারতপন্থী’ মুখ আবদুল্লাহ দি ওয়্যারকে দেয়া জোরালো ও আবেগময় এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
৪৪ মিনিটের সাক্ষাৎকারে আবদুল্লাহ বলেন, এই মুহূর্তে কাশ্মিরিরা নিজেদের ভারতীয় বলে মনে করে না। তারা ভারতীয় হতে চায় না। তারা বরং এখন চীনা শাসনে থাকতে চাইবে।
আবদুল্লাহ বলেন, নতুন ডোমিসাইল আইন করা হয়েছে উপত্যকায় হিন্দুদের বন্যা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা সৃষ্টির জন্য। তিনি বলেন, এটি কাশ্মিরি জনগণের মনকে আরো বিষিয়ে তুলেছে।
তিনি ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট কাশ্মিরের সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রায় ৭২ ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তিনি অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫ক অব্যাহত রাখার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার জন্য বৈঠকে বসেছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, উপত্যকায় এত সৈন্য কেন এবং কোনো সামরিক হুমকি পাওয়ার কারণে এমনটা হচ্ছে কি না।
আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পিতভাবে তার মধ্যে এই ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা চালান যে, নিরাপত্তাগত কারণেই সৈন্য বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, মোদি অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫ক নিয়ে একটি কথাও বলেননি। আবদুল্লাহ বৈঠক থেকে এই বিশ্বাস নিয়ে বের হন যে, অনুচ্ছেদ দু’টি পরিবর্তন করা হচ্ছে না। জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি একমত হন যে, প্রধানমন্ত্রী তাকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করেছেন।
আবদুল্লাহ আরও বলেন, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট হঠাৎ করে যখন সাংবিধানিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হলো, ন্যাশনাল কংগ্রেস ও অন্য সব মূলধারার রাজনৈতিক দল কাশ্মিরিদের চোখে খারাপভাবে মূল্যায়িত হলো। নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি দুই কূলই হারিয়েছেন। কেন্দ্র তাকে মনে করে বিশ্বাসঘাতক এবং তাকে গ্রেফতার করে। আর কাশ্মিরিরা তাকে ভারতের দাস মনে করে এবং এটাকে আবদুল্লাহর যথার্থ প্রাপ্তি বলছে। তারা তাকে গালাগাল করে, তাকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে বিদ্রুপ করে। এটি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, কষ্ট দেয়।
