কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ : মাহমুদ মাদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩৭০ ধারা বিলোপের মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের বন্ধন আরও মজবুত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সর্ববৃহৎ মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মাদানি। বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অনুষ্ঠিত বার্ষিকসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সংগঠনটির সর্বোচ্চ নেতা মাহমুদ মাদানি বলেন, ‘কাশ্মীরের মানুষের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তান এ উপত্যকাকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে। সে ক্ষেত্রে মোদি সরকারের ৩৭০ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত একেবারেই ঠিক। কাশ্মীর থেকে বিশেষ মর্যাদা তুলে নিলেও আমাদেরই থাকবে। না তুলে নিলেও আমাদেরই থাকবে। জুম্মু-কাশ্মীরের অধিবাসী মানেই ভারতীয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ৩৭০ ধারা বিলোপের মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের বন্ধন আরও মজবুত হয়েছে। আর এভাবে ভারতের সঙ্গে সার্বিক ঐক্যের মধ্যেই কাশ্মীরিদের উন্নতি লুকিয়ে রয়েছে।’

কাশ্মীরে ভারতবিরোধী যেকোনো বিক্ষোভ জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সমর্থন করে না জানিয়ে মাহমুদ মাদানি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ কাশ্মীরকে ধ্বংস করতে চায়। তারা কাশ্মীরকে রাজনীতির প্ল্যাটফরম করে তুলে ফায়দা লুটতে চায়। আর এ ফায়দা লুটের কোনো সুযোগই মোদি সরকার দেবে না বলে বিশ্বাস করি।’

তিনি যোগ করেন, ‘কাশ্মীরকে সব সময়ই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। তাই কাশ্মীরে মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন আমরা।’

পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের কারণেই কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ আসলে কী চান তা ভারতবাসীর কানে এসে পৌঁছায় না বলে দাবি করেন তিনি। ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে মোদি সরকারকে পুরোপুরি সমর্থন জানানোর পর এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মাহমুদ মাদানি। শুধু আসামেই নয় ভারতের সব রাজ্যে এনআরসি চালু করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটা খুবই জরুরি একটি বিষয়। কত অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন তা চিহ্নিত করতে সারা দেশে এনআরসি চালু করা প্রয়োজন। এনআরসি নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে কে ভারতীয় আর কে অভারতীয় তা বেরিয়ে আসবে। এর পর ভারতীয় নাগরিকদের ওপর আর আঙুল তোলা হবে না। তাই এনআরসি হওয়া জরুরি।’

প্রসঙ্গত ভারতের মুসলিম সংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। দেশভাগেরও বিরোধিতা করেছিল এ সংগঠন।

আগের সংবাদ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, তারপর শ্বাসরোধে হত্যা
পরবর্তি সংবাদকলকাতায় বই রপ্তানি, ইসলামি প্রকাশনীগুলো যা ভাবছে