
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে জম্মু-কাশ্মীরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। কঠোর অবরোধ ও মোড়ে মোড়ে সেনা-পুলিশ সত্ত্বেও গত দেড় মাসে উপত্যকায় প্রতিদিন গড়ে ২০টি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে বিক্ষোভের মাত্রা ও সংখ্যা ততই বাড়ছে। খবর এএফপির।
বিক্ষোভের বেশিরভাগই হচ্ছে উপত্যকার সবচেয়ে বড় শহর শ্রীনগরের চারপাশে। এরপরই রয়েছে উত্তর-পশ্চিমের বারামুল্লা জেলা ও দক্ষিণের জেলা পুলওয়ামা। রোববার সরকারের এক সিনিয়র কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৭২২টি বিক্ষোভ হয়েছে। প্রধান শহর শ্রীনগরের পরই বারামুল্লা ও পুলওয়ামা শহর বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
কাশ্মীরি জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ এসব বিক্ষোভে ভারতীয় বাহিনীর কঠোর বাধার মুখে পড়েছে। টিয়ারগ্যাস ও পেলেট বা ছররা গুলি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা হয়েছে। এতে এ পর্যন্ত পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ২০০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহেই আহত হয়েছে ৯৫ জন।
এ পর্যন্ত আটক করা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জনকে। এর মধ্যে খ্যাতনামা রাজনীতিকসহ স্থানীয় ১৭০ জন নেতাকর্মী রয়েছেন। আটককৃতদের মধ্যে ৩ হাজার জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
এদিকে কাশ্মীর সীমান্তে ভারত ও পাক বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ রেখায় শনিবার গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়।
নয়াদিল্লি দাবি করেছে, চলতি বছর ২ হাজার বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাক বাহিনী। সেই সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
