
ফাতেহ ডেস্ক:
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ খুন-ধর্ষণ, জুলুম-অত্যাচার থেকে জনগণকে রেহাই দিতে দেশের জনগণের বিশেষ করে কিশোর তরুণ যুবকদের চারিত্রিক ও নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়ন সাধনে কার্যকর পদক্ষেপ হাতে নিতে এবং এ লক্ষ্যে শিক্ষার সকল স্তরে ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, বিদ্যমান সিলেবাসকে একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বব্যাপী চলমান অস্থিরতা, অশ্লীলতা, অপরাধ প্রবণতার মোকাবেলায় যুগোপযোগী করে সংশোধন ও প্রণয়ন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
আজ সোমবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাকির বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন এই দাবি জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, সারাদেশে খুন-ধর্ষণের ন্যায় অপরাধের তুফান বইছে। সব ধরনের বর্বরতাকে হার মানিয়ে, প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের এক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলছে। এগুলোই কি ছিল একাত্তরে রক্ত ঢেলে স্বাধীনতা অর্জনের ফলাফল? প্রশ্ন জাগে শতকরা ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে কি ভাবে এহেন গর্হিত কাজের মহড়া চলে? ইসলামে যিনা/ব্যভিচারের যেই কঠিন শাস্তি নির্ধারণ করেছে, সেখানে মুসলমানের সন্তানরাই কিভাবে অবলীলায় ধর্ষণের মত পাশবিকতায় লিপ্ত হচ্ছে। তাহলে কি ইসলামী বিধানকে পাশ কাটিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের রেখে যাওয়া সিস্টেমের বিষফল এই বর্বরতা?
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন মনে করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাযথ ধর্মীয় শিক্ষা ও অনুশাসনের অভাব, পারিবারিক সম্পর্ক ও বন্ধনে শিথিলতা, বেকারত্ব, পশ্চিমা সংস্কৃতির অবাধ অনুপ্রবেশ, শ্রেণী-বয়স নির্বিশেষে সবার হাতে স্মার্টফোন, বয়সের দোহাই দিয়ে বিয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি বহুবিধ কারণে দেশে ধর্ষণ ও বহুবিদ যৌন অপরাধ বেড়েই চলছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার সকল স্তরে ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা; কিশোর, তরুন ও যুবক সমাজের চারিত্রিক ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে সরকারিভাবে মসজিদভিত্তিক বাধ্যতামূলক আত্মশুদ্ধিমূলক প্রকল্প হাতে নেয়া, শরীয়া আইনে সকল ফৌজদারি অপরাধের বিচার নিশ্চিত ও কার্যকর করার কোন বিকল্প নেই। ছাত্র আন্দোলন নেতৃবৃন্দ দেশের সচেতন ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সুনির্দিষ্ট এসব পদক্ষেপ হাতে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায়।
