
ফাতেহ ডেস্ক
বুধবার রাজধানীর ফকিরাপুলে ‘ক্যাসিনো’ চালানো ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ১৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও আনুমানিক ২০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ক্লাবের সভাপতি যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে।
‘ক্যাসিনো’ চালানো ইয়ংমেন্স ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। তিনি দাবি করেছেন, এ ক্লাবের ভেতরে জুয়ার আসর বসতো এমন খবর তার জানা ছিল না। তিনি ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার ক্লাব হিসেবেই সেটাকে জানতেন। মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী সাব্বির এ ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক। হাজী সাব্বিরই তাকে ওই ক্লাবে নিয়ে গিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ক্লাবটিতে র্যাবের অভিযান পরিচালনার পর দেখা যায়, এর একটি কক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ঝোলানো। এর বিপরীত পাশের দেয়ালে ঝোলানো রাশেদ খান মেননের ছবি। এছাড়াও একটি ক্রেস্ট প্রদান বা গ্রহণ করছেন তিনি এমন একটি ছবিও ঝুলছে সেখানে। আটককৃতদের একজন জানান, ওটা ক্লাবের চেয়ারম্যানের কক্ষ।

প্রথমে ক্লাবের চেয়ারম্যান থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন মেনন। তবে সেখানে তার ছবি থাকার কথা উল্লেখ করা হলে এ তথ্য স্বীকার করেন তিনি। অবশ্য বলেন, ইয়ংমেন্স ক্লাব হিসেবে তিনি সেটাকে চেনেন না, এটাকে ফকিরাপুল ক্লাব হিসেবে তিনি জানেন।
ইয়ংমেন্স ক্লাবে জুয়া খেলা বা মদের আসরের কোনও দায়দায়িত্ব তার ওপর বর্তায় না দাবি করে মেনন বলেন, আমি এটাকে জানি ফুটবল ক্লাব হিসেবে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি করেছে। এটা একটি ভালো কাজ করেছে। তবে সরকার আগে থেকেই এটার বিষয়ে জানে। পুলিশ জানে। পুলিশ তো এটা ভালো করেই জানে। তারা এতদিনে কিছু করেনি কেন?’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১৯ জুন ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের ৩১ সদস্যের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। এতে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে সভাপতি ও হাজী মো. সাব্বির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ফকিরেরপুলের এই ক্লাবটির প্যাভিলিয়নে কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় ওই নতুন কমিটি অনুমোদনের পাশাপাশি তৎকালীন বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপিকে সর্বসম্মতিক্রমে ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
