
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি এখন ‘উস্কানিমূলক রণহুঙ্কার’ হয়ে উঠেছে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন ভারতের বিশিষ্ট নাগরিকদের একাংশ। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠাবশত লেখা চিঠিতে, গণপিটুনির প্রতিবিধানে কেন্দ্রের ব্যর্থতা নিয়েও কথা বলেছেন তাঁরা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘দুঃখজনক ভাবে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি এখন উস্কানিমূলক রণহুঙ্কার হয়ে উঠেছে। যার ফলে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হচ্ছে। একাধিক গণহত্যাও ঘটছে। ধর্মের নামে এত হিংসা অবিশ্বাস্য! এটা মধ্যযুগ নয়! দেশের সংখ্যাগুরু সমাজের অনেকের কাছেই রামের নাম অতি পবিত্র। শীর্ষ স্তরের প্রশাসক হিসেবে, রামের নামে কালি ছিটানো প্রতিরোধের দায়টা কিন্তু আপনারই (প্রধানমন্ত্রীর)!
এ বার তাঁদের বক্তব্যকেই টুইটারে সমর্থন জানালেন তৃণমূল সাংসদ নুসরাত জাহান। শ্রীরামচন্দ্রের নাম জড়ানো কোনও ধর্মীয় ধ্বনি কিভাবে ‘রণহুঙ্কার’-এ পরিণত হচ্ছে ও গণপিটুনির মতো ঘটনাকে ডেকে আনছে সে বিষয়ে টুইটারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নুসরাত।
তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ দেশের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করছে, যা কখনও উচিত নয়। টুইটে কবি ইকবালের ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’ কবিতার অংশবিশেষ তুলে ধরে ভারতবর্ষের জাতিগত বৈচিত্র ও ঐতিহ্যের কথা বলেছেন তিনি। টুইটার পোস্টে নুসরাত লিখছেন, ‘গোমাংস খাওয়া ও গরু পাচারের নামে গুজব ছড়িয়ে সারা দেশেই গোরক্ষকরা নাগরিকদের উপর নানা ভাবে আক্রমণ শানাচ্ছেন। কিন্তু এই সব ঘটনা নিয়ে সরকার নীরব। কোনও ব্যবস্থাও নিচ্ছে না, আমি এতে ব্যথিত।’
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, শ্যাম বেনেগাল, অনুরাগ কাশ্যপ-সহ ৪৯ জন বিদ্বজ্জনের লেখা খোলা চিঠিকে সমর্থন জানিয়ে এই পোস্টে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের এক জন তরুণ সাংসদ হিসেবে গণপিটুনির মতো অপরাধ রুখতে কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দেশের সরকার ও আইনপ্রণেতাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
ইকবালের কবিতার বক্তব্যের সুরকে তুলে ধরে মানবতাকেই প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়ে নুসরাত লিখেছেন, ‘কেবলমাত্র গরুর নাম করে, ভগবানের নাম করে কারও দাড়ি আছে বলে বা টুপি আছে বলে এই ধরনের খুনখারাপি অবিলম্বে বন্ধ হোক।’
২০১৪ সালে মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে দলিত-সংখ্যালঘুদের উপর ঘৃণার ঘটনা বেড়ে গিয়েছে দাবি করে মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এই সব ঘটনায় দেশের ভবিষ্যত নিয়ে উকণ্ঠা প্রকাশের সঙ্গে গণপিটুনি রোধে সরকারের ব্যর্থতাকেও কটাক্ষ করেন তাঁরা।
