‘গে জিন’ বলতে কিছু নেই : সেকুলার সমকামী চিন্তায় বড় আঘাত

মুসান্না মেহবুব

পশ্চিমাগোষ্ঠী এবং সেকুলার চিন্তার ধারকরা সমকামিতাকে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ‘সেক্স ওরিয়েন্টেশন’ বলে আসছে যে সূত্রের ভিত্তিতে, গে জিন, এবার সেই সূত্রের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করেছেন গবেষকরা। তাঁরা বলছেন, ‘গে জিন’ বলতে কিছু নেই। সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি থেকে মানুষের ভেতর সমকামিতার খাহেশ তৈরি হয়।

সম্প্রতি আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ও আরও কিছু সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণার পর এমন তথ্য উঠে আসে। প্রায় ৫০ লাখ নারী ও পুরুষের মধ্যে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গে জিন বলতে কিছু নেই।

এ গবেষণার ফলে সেকুলার সমকামী চিন্তায় বড় ধরনের আঘাত পড়েছে বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ ‘গে জিন’ সূত্রের ভিত্তিতেই তারা হোমোসেক্সুয়াল ডিজঅর্ডারের চিকিৎসা ও নিরাময়কে এতদিন ধরে অস্বীকার করে আসছিল। বলে আসছিল, সমকামিতার মানসিকতা নিতান্ত স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক সেক্স ওরিয়েন্টেশন।

গত বৃহস্পতিবার জার্নাল সায়েন্সে ‘গে জিন’-এর অস্তিত্ব অস্বীকার-মূলক গবেষণাটি প্রকাশিত হবার পর সমকামী চিন্তার ধারকদের তুমুল অস্বস্তিতে পড়তে দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে।

উল্লেখ্য, সমকামিতা এবং জিনের সম্পর্ক নিয়ে প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় ১৯৯০ সালে। ১৯৯৩ সালে আমেরিকার জিনতাত্ত্বিক ডিন হ্যামার কয়েকটি পরিবারের সমকামী পুরুষদের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দাবি করেন, সমকামিতা ‘এক্স ক্রোমোজোমের’ তারতম্যের কারণে হয়।

আমাদের শরীরবৃত্তীয় ক্রিয়ার অধিকাংশই জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এর মধ্যে কিছু জিনের মুখ্য ভূমিকা থাকে যাদের বলে মার্কার (নির্দেশক)। ডিন হ্যামার ও সমকামী চিন্তার গবেষকরা সেই গবেষণার পর দাবি করেন, সমকামী পুরুষদের ১৩ এবং ১৪ নম্বর ক্রোমোজোমের মধ্যে ওই মার্কার জিনের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। ওই জিনই সমকামিতার জন্য দায়ী।

ওই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় বিজ্ঞানীমহলে।

ব্রিটিশ জিনতাত্ত্বিকরা দাবি করেন, আরো অনেক, আরো বিশদে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই কোনও জিনকে ‘গে জিন’ বলে চিহ্নিত করা সম্ভব। পুরুষদের ক্ষেত্রে যে জিনকে দায়ী করা হয়েছে, মহিলাদের ক্ষেত্রে তার প্রভাব পৃথক হতেই পারে।

এসব তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়েই ‘গে জিন’ ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। এবং সমকাম যে মানসিক একটা রোগ, এটাকে পশ্চিমা ও সেকুলার চিন্তাবিদদের বড় একটি অংশ অস্বীকার করে আসেন। এবং একপ্রকার জোর করেই এ রোগের চিকিৎসা বন্ধ রাখা হয়েছে।

অথচ নব্বইয়ের দশকের বেশ কয়েকজন সাইকোলজিস্ট সমকাম রোগের অনেকগুলো কেইস স্টাডি করেছেন এবং তাঁরা এর ভালো সমাধানও পেয়েছেন। জোসেফ নিকলোসি তাঁর ‘healing homosexuality : case stories of reparative therapy’ নামক বইয়ে এ রোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। তিনি সমকাম সমস্যায় আক্রান্ত প্রচুর রোগীকে সুস্থও করে তুলতে পেরেছিলেন চিকিৎসার মাধ্যমে।

আগের সংবাদ১৯ লাখ লোকের নাগরিকত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন : চরমোনাই পীর
পরবর্তি সংবাদকুড়িয়ে পাওয়া টাকা কী করবেন?