গোলান মালভূমিতে গড়ে উঠছে ‘ট্রাম্প সিটি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিরিয়ার গোলান মালভূমি। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে এ অঞ্চলটি দখলে নেয় সন্ত্রাসবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। তারপর থেকে সেখানে ইহুদি বসতি গড়ছে ইসরাইল। গড়ছে নতুন একটি সিটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামানুসারে নতুন ওই শহরটির নাম দেয়া হচ্ছে ট্রাম্প সিটি। খবর ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইহুদিবাদী দেশটির কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে এ নামকরণ করা হচ্ছে।

এ বছরের মার্চে গোলান মালভূমি ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জেনেছে গোলান ইসরাইলের সার্বভৌম। আর এ কারণেই গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের।

৫২ বছর পর গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বে স্বীকৃতি দিলো প্রথম কোনো দেশ।

মালভূমিতে বর্তমানে ২০ হাজার অবৈধ দখলদার বসবাস করছেন। কাজেই এই দখলদারিত্ব কখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দিতে পারে না।

এদিকে ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও নিন্দা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তুরস্ক, ফ্রান্সসহ অনেক দেশ রয়েছে।

১৯৬৭ সালে আরবদের সঙ্গে ছয় দিনের যুদ্ধে সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরাইল। সেই সময় ইহুদিবাদী বাহিনী ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীর ও গাজা উপত্যকারও নিয়ন্ত্রণ নেয়।

পরে ১৯৮১ সালে গোলান মালভূমিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ ভূখণ্ড বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহল কখনই ইসরাইলের এ দাবির স্বীকৃতি দেয়নি।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গোলান মালভূমির মালিকানাসংক্রান্ত এক ভোটাভুটি হয়।

সেখানে উপস্থিত ১৫৩ দেশের মধ্যে ১৫১ দেশ এ ভূখণ্ডের মালিকানা সিরিয়ার বলে স্বীকৃতি দেয়। শুধু আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

আগের সংবাদসৌদি জাহাজেও আগুন, বেড়ে গেছে তেলের দাম
পরবর্তি সংবাদশ্রীলঙ্কায় সংঘর্ষ, আগুন ও ভাঙচুর, নিহত ১