
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতির পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদ। সোমবার একটি ডিক্রি জারি করে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এ পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন তিনি।
নতুন আদেশে দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি আহমেদ বদরেদ্দিন হাসানকে জোরপূর্বক অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। ২০০৪ সালে বাশার আল আসাদই গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে আহমেদ বদরেদ্দিন হাসানকে নিযুক্ত করেছিলেন।
গ্র্যান্ড মুফতির অবর্তমানে তার দাপ্তরিক সব কাজ ধর্ম মন্ত্রণালয় অথবা ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরিত হবে। এই দুটি মন্ত্রণালয় আগে থেকেই দেশটির বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়গুলো দেখাশোনা করে। এই আইনের মাধ্যমে ওয়াক্ফ মন্ত্রীর ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি সম্প্রসারিত হবে এবং তার নামের আগে ‘মুফতি’ খেতাব যোগ করার রাষ্ট্রীয় অনুমতিও মিলবে এই আইনের মাধ্যমে। এ ছাড়া এখন থেকে ইসলামিক আইন শাস্ত্রের কাউন্সিল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত বিষয়ে রায় দেবে এবং চন্দ্র ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করবে।
রাষ্ট্রীয় এই পদক্ষেপের পেছনের কারণ সম্পর্কে জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, ধর্মীয় বিষয়ে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধান বাড়ানোর জন্যই এটি করা হয়েছে। তবে হঠাৎ করে করা এই আইন দেশটিতে বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে অনেকে বলছেন, এটি ধর্মীয় বিষয়ে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ। অবিলম্বে এই আইন বাতিল করা উচিত।
কেউ কেউ মনে করেন, কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যায় সরকার ও মুফতিয়ানে কেরামের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। মুফতি হাসানের কুরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে ফিকহ সায়েন্টিফিক কাউন্সিল কর্তৃক জারি করা কঠোর প্রতিক্রিয়ার কয়েকদিন পরই আসাদ সরকার গ্র্যান্ড মুফতির পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়।
সূত্র: আসরে হাজির, এএফপি
