
ফাতেহ ডেস্ক
ঘূর্ণিঝড়ে ইদাইয়ের তাণ্ডবে আফ্রিকার ৩ দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার মোজাম্বিকে মৃতের সংখ্যা ২৪২ থেকে বেড়ে ৪১৭ হওয়ার কথা নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া জিম্বাবুয়েতে এ পর্যন্ত ২৫৯ জন ও মালাওয়িতে ৫৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে কলেরা-ম্যালেরিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগ।
ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর এক সপ্তাহ কেটে গেলেও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে তিন দেশে। টানা বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দেখা দেয় বন্যা। মাইলের পর মাইল এলাকা ডুবে গেছে কাদাপানিতে। পানি নামার আগ পর্যন্ত প্রাণহানির সঠিক পরিসংখ্যান দেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হওয়া মোজাম্বিকে এখনো আটকা পড়ে আছে প্রায় দেড় হাজার মানুষ। অনেক এলাকাতেই বিদ্যুৎ নেই, রয়েছে খাবার ও পানির তীব্র সংকট। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলছে ধীর গতিতে। অন্তত ৯০ হাজার মানুষের ঠাঁই হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে।
বন্যায় কলেরা-ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় মহামারির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
প্রাথমিক স্বাস্থ্য কাউন্সিলর থানমারি যুংগা বলেন, আহত ও আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় ঔষধ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা কারণ বেশিরভাগ এলাকা পানিতে ডুবে ঔষধ নষ্ট হয়ে গেছে। আবার ত্রাণের সাথে ঔষধ আসলেও তা প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছেনা।
এদিকে, বাজি ও জাম্বেজি নদীর পানি বাড়তে থাকায় মোজাম্বিকে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।
১৪ মার্চ মোজাম্বিকের বেইরা অঞ্চলে আঘাত হানে সাইক্লোন ইদাই। ঝড়ের কারণে প্রাণহানির পাশাপাশি তিন দেশের অন্তত ১৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
