
ফাতেহ ডেস্ক
সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে চলতি শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদিসের বোর্ডপরীক্ষা আগামী ১৩ শাবান থেকে ২৩ শাবান পর্যন্ত সারা দেশে এক যোগে অনুষ্ঠিত হবে। মাঝখানে একদিন, ১৫ শাবান, শবে বরাত উপলক্ষে পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। বাকি সব কয়দিন নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল বুধবার হাইআতুল উলয়ার মতিঝিলস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বোর্ডটির কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। হাইআতুল উলয়ার সদস্য মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
এ বছর প্রশ্নপত্র কীভাবে তৈরি করা হবে জানতে চাইলে মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু বলেন, গত পরীক্ষার সর্বশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে এ বছরও। অর্থাৎ পরীক্ষা চলাকালে প্রতিদিন সকালে ওই দিনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতিটা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। এবং প্রশ্নপত্রও নির্দিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বশীল আগের দিন রাতে প্রস্তুত করবেন।
হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্র পাবার পর তাৎক্ষণিক তা প্রিন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রতিটা কেন্দ্রে দ্রুত নির্দেশনা পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু।
উল্লেখ্য, হাইআতুল উলয়ার বিগত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে তুমুল বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়েছিল পরীক্ষার্থীদেরকে। একই সঙ্গে বোর্ড কর্তৃপক্ষও পড়েছিল বিপাকে। ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দাওরায়ে হাদিসের ওই পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠলে পরীক্ষার চতুর্থ দিন হয়ে যাওয়া চার পরীক্ষা বাতিল এবং অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো স্থগিত করে দেয় বোর্ডটি। পরে ২৩ এপ্রিল থেকে আবারও নতুনভাবে পরীক্ষা নেবার ঘোষণা দেয়। কিন্তু ২৩ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হলে তৃতীয় দিনের মাথায় ২৫ এপ্রিল আবারও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। হাইআতুল উলয়া সঙ্গে সঙ্গে ২৫ এবং ২৬ এপ্রিলের পরীক্ষাও স্থগিত করে দেয়। এবং সারাদেশে বিতরণ করা অবশিষ্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও বাতিল ঘোষণা করে।
পরে ২৭ এপ্রিল থেকে অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো অভিনব পদ্ধতিতে গ্রহণ করে বোর্ডটি। সম্পূর্ণ নতুন প্রশ্নপত্রে। প্রতিদিনের প্রশ্নপত্র বিশ্বস্ত বিশেষ একটি টিম আগের দিন রাতে প্রস্তুত করে রাখে। পরদিন সকালে পরীক্ষা শুরুর আধ ঘণ্টা আগে সারা দেশের কেন্দ্রগুলোতে কেন্দ্র-জিম্মাদারের কাছে প্রযুক্তির সহায়তায় পৌঁছে দেওয়া হয় এ প্রশ্নপত্রের কপি। কেন্দ্র-জিম্মাদার সম্ভব হলে সেটা আধঘণ্টার ভেতরে প্রিন্ট করিয়ে ছাত্রদের হাতে হাতে পৌঁছে দেন। যেখানে প্রিন্ট করা সম্ভব হয় না, সেখানে প্রশ্নগুলো ছাত্রদের সামনে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে দেন মুমতাহিনগণ। পরে ব্ল্যাকবোর্ড থেকে দেখে দেখে ছাত্ররা প্রশ্নের উত্তর লিখে। এভাবেই নানা বিড়ম্বনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিগত পরীক্ষা।
পুনরায় যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ না থাকে, তাই এ বছরও প্রতিদিনের প্রশ্ন প্রতিদিন পাঠানো নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
