আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
চার্চের একটি স্কুলে বধির শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আর্জেন্টিনার একটি আদালত রোমান ক্যাথলিক দু’জন যাজককে কমপক্ষে ৪০ বছরের জেল দিয়েছে। তারা হলো হোরাসিও করবাচো এবং নিকোলা কারাডি। একই সঙ্গে জেল হয়েছে ওই স্কুলের একজন মালির। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মেনডোজা প্রদেশের একটি স্কুলে শিশুদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার মেনডোজা প্রদেশের রাজধানী মেনডোজায় একটি আদালত অভিযুক্ত আজেন্টিনার যাজক করবাচোকে ৪৫ বছরের জেল দিয়েছে। করবাচোর বয়স ৫৯ বছর। লুজান ডি সিউয়ো শহরে ইন্সটিটিউটো অ্যান্টোনিও প্রোভোলো ডি মেনডোজায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের জন্য অভিযুক্ত করা হয় করবাচোকে। অন্যদিকে ৪২ বছরের জেল দেয়া হয়েছে কারাডিকে। ৮৩ বছর বয়সী এই যাজক ইতালির নাগরিক। ইতালির ভেরোনায় একই ইন্সটিটিউটে’র স্কুলে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে তার বিরুদ্ধ। একই মামলায় ১৮ বছরের জেল হয়েছে লুজান ডি কিউয়ো স্কুলের মালি আরমান্ডো গোমেজের। এই শাস্তির বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না।
নির্যাতিত শিশুদের একজনের পিতা অ্যারিয়েল লিজারাগা। তিনি একটি কারখানায় কাজ করেন। তার মন্তব্য, এই বিচার আমাদের জন্য, সারা বিশ্বের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেই ধারণা আপনাদের নেই। নির্যাতনের এসব অভিযোগ গোপন করার চেষ্টা করছিল চার্চ। কিন্তু এই যাজকরা তো আমাদের শিশুদের ধর্ষণ করেছে। যৌন নির্যাতন করেছে। আমাদের শিশুরা বধির! এই রায়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত যাজকদের অপরাধের সমাপ্তি হলো।
বিবিসির ক্যান্ডাসে পিটি লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে রোমান ক্যাথলিক চার্চে যৌন নির্যাতনের যেসব অভিযোগ আছে তাতে যুক্ত হলো এই রায়। এই ঘটনায় আর্জেন্টিনার মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত। এখানেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যাথলিক চার্চে বহু ডজন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। মেনডোজায় যেসব শিশু নির্যাতিত হয়েছে তাদেরকে প্রতীকী চিহ্ন ব্যবহার করে কি ঘটেছে তা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার না করতে বলা হয়। আদালত শুনানি করেছে কিভাবে ওইসব শিশু ধর্ষিত হয়েছিল। এখন আর্জেন্টিনার অধিবাসীরা জানতে চাইছেন, ওই স্কুলটি কেন ক্যাথলিক চার্চ থেকে বন্ধ করা হয় নি। কেন তা পুলিশ বা আইন ব্যবস্থাকে বন্ধ করতে হলো। কেন ধর্ষকদের বিচার থেকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছিল।
