
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে ‘জঙ্গিবাদ’ ছড়ানোর অভিযোগ এনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার লোকসভায় মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিশণ রেড্ডি বলেন, গোটা ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোর জন্য বাংলা-সহ বিভিন্ন রাজ্যের মাদ্রাসাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে তার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের দুই মন্ত্রী পার্থবাবু ও সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এবং বিরোধী শিবিরের মান্নান ও বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী, তাঁদের সকলেরই বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এক ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিশানা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রেড্ডি মনে করছেন, বাংলাদেশের জঙ্গিরা ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গ ঘাঁটি করতে শুরু করেছে। রাজ্যের দুই বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও সুকান্ত মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী জেএমবি বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের কিছু মাদ্রাসাকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। মাদ্রাসাগুলি শিক্ষার্থী ভর্তি করে তাদের মগজধোলাই করে জেহাদের মন্ত্রে দীক্ষিত করার কাজ চলছে। রেড্ডি জানান, ‘ওই সব গোয়েন্দা তথ্য রাজ্যকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।’
তৃণমূলের লোকসভার নেতা সুদীপ বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, এ ধরনের তথ্য দেওয়ার আগে কেন্দ্রের উচিত ছিলো রাজ্য সরকারের সঙ্গে যাচাই করে নেওয়া। মন্ত্রীর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেছেন, ‘এটা বাংলায় অস্থিরতা তৈরির একটা ষড়যন্ত্র। খাগড়াগড় কাণ্ডের পরে আমরা বলেছিলাম, কোন মাদ্রাসা থেকে হিংসা ছড়ানো হচ্ছে আমাদের বলুন। আমরা গিয়ে তালা দিয়ে আসব। এনআইএ একটিও উদাহরণ দিতে পারেনি।’
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি, নব্য) শাখার চারজনকে শিয়ালদহ থেকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। এদের তিনজনই বাংলাদেশি নাগরিক। এরপরেই এই অভিযোগ আনলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আরএইচ/
