
ফাতেহ ডেস্ক:
বিনা দোষে কারাভোগ করা পাটকল শ্রমিক জাহালমকে এক মাসের মধ্যে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে ব্র্যাক ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি এফ আর নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এ রায় দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাসার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।
জাহালমকে টাকা দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তা লিখিতভাবে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তরে জানাতে বলা হয়েছে। আর এ ঘটনায় দুদককে সতর্ক করে আদালত বলেছে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
এ ছাড়া নিরীহ জাহালমকে গ্রেপ্তার দেখানো ৩৩ মামলা পুনঃতদন্ত করে দ্রুত বিচার শেষ করতেও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ২০১২ সালে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। তদন্তের পর দুদক জানিয়েছিল, একটি জালিয়াত চক্র ১৮টি ব্যাংকের ১৩টি হিসাবে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জমা করে এই টাকা আত্মসাৎ করেছে। ওই ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি ছিল ব্র্যাক ব্যাংক।
কিন্তু দুদকের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর ধরে কারাগারে কাটাতে হয়েছে টাঙ্গাইলের জাহালমকে। তাকে ‘আবু সালেক’ বলে ব্র্যাক ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা শনাক্ত করেছিল বিধায় ব্যাংটিকে এ জরিমানা দিতে বলা হয়েছে।
জাহালমকে নিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সেদিন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত। পরে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে।
সব পক্ষের বক্তব্য শুনে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নিরাপরাধ পাটকল শ্রমিক জাহালমকে অর্থ জালিয়াতির মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওইদিনই মুক্তির নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী সেদিন তিনি মুক্তিও পান। একই সঙ্গে এই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন হলফনামা আকারে দুদককে দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
