
রাকিবুল হাসান
উদার বাণিজ্যিকীকরণের কারণে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বাড়ছে হালাল খাদ্যের ঝুঁকি। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এসব খাদ্যপণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানিও হচ্ছে। চাহিদা পূরণের তাগিদে বদলে যাচ্ছে ভোক্তার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিও। ফলে নিজের অজান্তেই সবাই অতিক্রম করছে হালাল-হারামের সীমানা। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) হিসাবে সারা বিশ্বে প্রায় ১৭ লাখ ট্রিলিয়ন ডলারের আমদানি বাণিজ্য হয়। আর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ বলছে, সেখানে হালাল পণ্যের বাণিজ্য মাত্র ৯০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। অর্থাৎ হালাল পণ্যের ঝুঁকি বিশ্বজুড়েই রয়েছে। আর বিশ্বায়নের যুগে মুক্তবাজার অর্থনীতির কল্যাণে সেই ঝুঁকি বাংলাদেশেও প্রবেশ করেছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
দৈনিক ইনকিলাবের ২৬ জুলাই-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে ফিশ ফুডের নামে আমদানি করা ১৪ লাখ ৮ হাজার ৭২০ (১,৪০৮ মেট্রিক টন) কেজি শূকরসহ গবাদিপশুর বর্জ্য আটক করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। ঢাকার আইসিডিডিআরবি এবং চট্টগ্রামের পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার একইসাথে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিজস্ব পরীক্ষাগারে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তিনটি পরীক্ষাগার থেকেই এসব পণ্যকে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এবং আমদানি নিষিদ্ধ হিসাবে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে ।’
মাছ চাষের এখন জোর মৌসুম। দেশে হাওর-বাওর, পুকুর-দীঘি-খাল সর্বত্রই মাছ চাষ চলছে। আর এ সুযোগে এক শ্রেণির আমদানিকারক মাছের খাবারের নামে আমদানি নিষিদ্ধ শূকরের বর্জ্য এনে বাজারজাত করছে। শুধু একটি নয়, এমন আরও কয়েকটি চালান আটক হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে।
ভিয়েতনাম থেকে ২৫ কন্টেইনার-ভর্তি ছয় লাখ এক হাজার কেজি এমন ফিশ ফিড আমদানি করে চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আয়েশা কর্পোরেশন। থাইল্যান্ড থেকে শুকরের বর্জ্য সম্বলিত ১০ কন্টেইনার বোঝাই দুই লাখ কেজি মাছের খাবার আমদানি করে স্পেকট্রা হেকসা ফিড লিমিটেড নামে মানিকগঞ্জের অপর একটি প্রতিষ্ঠান। ইন্দোনেশিয়া থেকে শূকরের বর্জ্য সম্বলিত ২৫ কন্টেইনার বোঝাই ছয় লাখ সাত হাজার ৭২০ কেজি মাছের খাবার আমদানি করে ঢাকার মগবাজারের প্রোমিক এগ্রো অ্যান্ড ফিড প্রোডাক্টস লিমিটেড।
কালের কণ্ঠের ৩ আগস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেবিসি অ্যাগ্রো (প্রা.) লিমিটেড হংকং থেকে আমদানি করা শূকরের চর্বি, মাংস ও হাড় (এমবিএম- মিট অ্যান্ড বোন মিল) উপকরণ ব্যবহার করে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরি করে নিয়মিত বাজারজাত করছে। চ্যনেল আই বলছে, শূকরের চর্বি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সয়াবিন তেলও তৈরি করত।
চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলছে?
শূকরের দেহে সবচেয়ে বেশি চর্বি থাকে এবং সেই চর্বির মধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর চর্বিও রয়েছে। বস্তুতান্ত্রিক চিন্তা চেতনায় উজ্জীবিত ইউরোপ জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে এইসব চর্বিকে বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে ব্যবহার্য বা খাদ্য জাতিয় বিভিন্ন প্রকার উপকরণ যেমন উদ্ভাবন করেছে তেমনি তা সারা বিশ্ব জুড়ে বাজারজাতও করেছে। শূকরের চর্বিকে তারা বিভিন্নভাবে বাজারজাত করছে। এর বহুবিধ ব্যবহারকে নিশ্চিত করেছে প্রসাধনী সামগ্রীর কাঁচামাল, ঔষধের মাধ্যম বা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার, শল্য চিকিৎসায় ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নির্মাণ এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো মনুষ্য ও পশু খাদ্য সামগ্রির বিভিন্ন উপাদান হিসেবে এই ক্ষতিকারক বস্তুটিকে ব্যবহার করছে।
চিকিৎসকদের মতে, এ সমস্ত ক্ষতিকর খাবার খেলে একটি মুরগির বাচ্চা দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আকার ধারণ করে। মাছের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ খাবার খাওয়ার পরপর মাছগুলো দ্রুত বড় হতে থাকে। পরবর্তীতে এসব মুরগি, ডিম এবং মাছ খাবার পর মানুষের শরীরে নানারকম রোগব্যাধি দেখা দেয়। এমনকি ক্যান্সারেও আক্রান্ত হতে পারে।
তাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতিমালায় সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জীবিত শূকর এবং শূকরজাত সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ ‘। কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগগুলোও হালাল-হারামের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে খুব একটা কার্যকরী উপায় বের করতে পারছেন না। আবার ব্যবসায়ীরাও তার বাণিজ্য ও মুনাফাকেই বড় করে দেখছেন। ব্যবসায় তারা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সেভাবে বিবেচনায় আনছেন না। তাই এসব পণ্যের আমদানি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পণ্যের হালাল ‘লোগো’ ও কোম্পানির হালাল সার্টিফিকেট’ অনুসন্ধানের তাগিদ অনুভব করছেন না। একইভাবে দেশেও এর সবকটি উৎপাদক প্রতিষ্ঠানে ব্যাচ ধরে ধরে হারাম উপাদানের অস্তিত্ব আছে কিনা সেটি পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
আমদানি নীতিমালায় ২৮(ক) ধারা অনুযায়ী আমদানিকৃত সব পণ্য বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী বিএসটিআই কর্তৃক প্রত্যেক চালানের পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্টসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র, শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে আমদানিকারককে দাখিল করতে হয়। এরপরই ওই পণ্য খালাস হয়। তারপর সেটি বাজারে যায়। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) সক্ষমতা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকছে না। এ প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক তালিকায় ১৫৬টি পণ্য আছে। এর মধ্যে ৬৯টি খাদ্যপণ্য এমন, যেগুলোকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র দিতেই হয়। তা-ও তারা খাদ্যের গুণগত মান দেখেন, হারাম-হালালের বিষয়টি দেখেন না।
হালাল খাদ্য যাচাইয়ে ইফা’র সক্ষমতা কতটুকু?
বাংলাদেশে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হালাল সার্টিফিকেট দেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোও কতটা হালাল খাদ্য উৎপাদন করে সেটি মনিটরিংয়ের সক্ষমতা নেই ইফার।
বাংলাদেশ প্রতিদিন ৪ আগস্টের এক প্রতিবেদন বলছে, শুধু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ছাড়পত্র নিয়ে সৌদি আরবে হালাল মাংস রপ্তানি শুরু করে কিছু বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান। তবে জীবাণুঘটিত ত্রুটি পাওয়ার পর সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। সূত্র জানায়, গত বছর ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশের মাংস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সৌদি আরব। সৌদি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি (এসএফডিএ) কর্তৃক বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে রপ্তানিকৃত প্রায় ১২ হাজার কেজি খাদ্যপণ্যে ভৌত রাসায়নিক ও জীবাণুঘটিত ত্রুটি উদঘাটিত হয়।
গত ১৮ জুলাই হালাল মাংস রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা, সমস্যা ও সার্টিফিকেশন-সংক্রান্ত বর্তমান অবস্থা বিষয়ে পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণে একটি সভা হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। সেখানে বলা হয় হালাল সার্টিফিকেট প্রদানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি উপযুক্ত এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতা দেওয়া হবে।’
তবে প্রশ্ন উঠছে, আমদানি নীতিমালার বাধ্যবাধকতা এবং মনিটরিংয়ের সক্ষমতা নেই বলেই কি এমন হারাম খাদ্য এবং খাদ্য তৈরির হারাম ভেজাল কাঁচামাল আমদানির এই ধারাবাহিকতা চলতেই থাকবে?
অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম দিলেন আইনি সমাধান। তিনি বলেন, সব ভোক্তার নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার ‘নিরাপদ খাদ্য আইন’ প্রণয়ন করেছে । আগের খাদ্য অধ্যাদেশে কোনো ব্যক্তি অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদক, প্রক্রিয়াকারী বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করতে পারতেন না। বর্তমানে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে সরাসরি মামলা করারও সুযোগ রয়েছে।‘
কী বলছেন ওলামায়ে কেরাম?
আলেমগণ বলছেন, মুসলিমদের জন্য শুকর, শুকরের চর্বি কিংবা এ-জাতীয় উপাদানে তৈরি খাদ্য হারাম।
পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে চার জায়গায় নিষেধাজ্ঞা এসেছে। ১. ‘ তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত প্রাণী, রক্ত ও শূকরের মাংস।’ ( সুরা বাকারা, আয়াত ১৭৩) ২.’মৃত অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের মাংস অপবিত্র।’ (সুরা আনআম’ আয়াত ১৪৫) ৩. ’তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস… ।(সূরা মায়েদাহ, আয়াত ৩) ৪. ’অবশ্যই আল্লাহ্ তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা জবাইকালে আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। (সূরা নাহল, আয়াত ১১৫)
মুফতি ফারুক সিদ্দিকী বলেন, শূকরের গোশত থেকে শুরু করে সবকিছু মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়ায় পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে শুকরকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। কোন মুসলমান যেমন শূকর খেতে পারবেন না তেমনি শূকরের গোশত বা বর্জ্য দিয়ে কোন ব্যবসা করাও হারাম। যারা শূকরের বর্জ্যের মুরগি ও মাছের খাবার আমদানি করছেন তারাও হারাম কাজের সাথে জড়িত। জেনে শুনে কেউ এ ধরনের কাজ করলে তা চরম গোনাহ হিসেবে আল্লাহর কাছে গণ্য হবে।’
রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদের মুহাদ্দিস মুফতি ইমাদুদ্দিন মাসয়ালাটাকে একটু স্পষ্ট করে বলেন, হারাম কোনো বস্তু যেমন শূকর ইত্যাদির যদি এমনভাবে রিফাইন করা হয় যে, এসবের কোন মৌলিকত্ব বাকি না থাকে, তা হলেও উক্ত বস্তু ব্যবহার করা জায়েয আছে। আর যদি সেসব হারাম বস্তুর মৌলিকত্ব বাকি থাকে, তা হলে উক্ত বস্তু যাতে মিশ্রিত করা হবে, তা ব্যবহার করা জায়েয হবে না। আর এই মৌলিকত্ব পরিবর্তনের সীমারেখা হলো কোন বস্তুর মধ্যে তার নিজস্ব স্বভাবধর্ম অবশিষ্ট না থাকা। এরূপ পরিবর্তনকে রাসায়নিক পরিভাষায় কেমিক্যাল চেইঞ্জ বলে। যেমন সাবান, সোয়াবিন তেলে রিফাইননের পর মৌলিকত্ব বাকি থাকে না। এগুলো খাওয়া জায়েজ। ’ তবে মাছ-মুরগির খাদ্যে শূকরের বর্জ্য মেশানোর ঘটনা সামনে আসার পর তা নিয়ে পরীক্ষা- নিরীক্ষা করছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের মাধ্যমে গঠনমূলক কিছু পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট দাঈ আলেম, ড. আ ফ ম খালিদ হুসাইন। তিনি বলেন, মাছ-মুরগির খাবার তৈরী করে যে প্রতিষ্ঠানগুলো, তাদের প্রতিষ্ঠানে সরকারের জোর অভিযান চালানো দরকার। যেন তারা এসব শূকরের বর্জ্য দিয়ে মাছ মুরগির খাবার তৈরী করতে না পারে। কারণ শূকরের চর্বি মানবদেহের জন্য প্রচণ্ড ক্ষতিকর।’
হালাল হারামের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আছে। বাংলাদেশে তা নেই—এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হালাল হারামের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংস্থা আছে। বিশেষ করে যে দেশগুলোতে মুসলমানের সংখ্যা কম। এখন বাংলাদেশেও যেহেতু হারাম খাদ্যের আমদানি হচ্ছে, তাই এখানেও হারাম-হারাম দেখভালের জন্য সংস্থা দরকার।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘সরকার, প্রশাসন, আলেম-উলামা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে মাছ-মুরগির খাবারে যেন শূকরের চর্বি বা বর্জ্য মেশানো না হয়, এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর হতে হবে। দরকার হলে র্যাব অভিযান চালাতে হবে এসব প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে।’
এক জায়গায় সবাই একমত, গুণগত ও স্বাস্থ্যমান বজায় রেখেও হালাল উপায়ে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা যায়। আমদানির ক্ষেত্রেও এর নিশ্চয়তা বিধান সম্ভব। কিন্তু এসব তদারকি সঠিকভাবে হয় না। তারা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা এবং প্রয়োজনীয় আইনের অভাবকেই দায়ী করেন। এর সমাধানে তারা বলছেন, সব কিছু হতে হবে বিশুদ্ধ এবং হালাল। এর নিশ্চয়তা সরকারকেই দিতে হবে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানেরও নৈতিকতা থাকতে হবে। এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে ভোক্তাকেও। হালাল খাদ্যের দেখভালের জন্য দরকার নিয়ন্ত্রক সংস্থার। এ জন্য দেশে ফুড অথরিটি বেশি করে গড়ে তোলা দরকার। বিশেষ করে বিশ্বের অনেক দেশে এর জন্য শক্তিশালী ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনেস্ট্রেশন’ (এফডিএ) আছে। কিন্তু আমাদের দেশে নেই। তাই হালাল-হারামের বিষয় দেখভালের জন্য আলাদাভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে সরকারকেই।
