
ফাতেহ ডেস্ক :
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নিহত দুজন হলেন, দিল আহমদ (২২) ও দুস্ত মোহাম্মদ (১৯)। তাঁদের বাড়ি মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু শহরের বুড়া সিকদারপাড়া গ্রামে। বিজিবির ভাষ্য, নিহত দুজন মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঘটনার সময় মিয়ানমার থেকে নাফনদী দিয়ে ইয়াবার চালান পাচার করছিলেন তাঁরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নাফনদী কাছে জালিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জালিয়াপাড়া এলাকা দিয়ে ইয়াবার বড় একটি চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে হ্নীলা সীমান্ত চৌকির বিশেষ টহলদল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পরে ৪ থেকে ৫ জন ইয়াবা পাচারকারী একটি নৌকা নিয়ে নাফ নদীর বাংলাদেশ জলসীমানা অতিক্রম করার চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। পাচারকারীরা নৌকাটি বাংলাদেশ উপকূলে ভিড়ানোর চেষ্টা করে, এ সময় দুই ব্যক্তি লাফ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নৌকায় থাকা ২ থেকে ৩ জন ইয়াবা পাচারকারী অতর্কিতে বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে বিজিবির তিন সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষে ১০ থেকে ১২ মিনিট গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পরে নৌকাসহ কয়েকজন দ্রুত মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যান। গোলাগুলির পরে টহলদল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই ব্যক্তি ও বিজিবি তিন সদস্যকে উদ্ধার করে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
গত বছরের ৪ মে থেকে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয়। এখন পর্যন্ত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বন্দুকযুদ্ধ, মাদকে প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন ঘটনায় কক্সবাজার জেলায় ৩ নারীসহ ১৬৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ নারীসহ ৪২জন রোহিঙ্গা নাগরিকও রয়েছেন।
