ট্রান্সজেন্ডার নামক নোংরা সংস্কৃতি এদেশের জনগণ মেনে নেবে না: জাতীয় মসজিদের খতিব

|| তাসনিফ আবীদ ||

পশ্চিমা বিশ্বের উস্কানিতে ক্রমেই আমাদের দেশে ট্রান্সজেন্ডার নামক ফেতনা ভয়ঙ্কর আকার ধারন করছে। এই ফেতনা যদি কোনো আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠা হয়, তাহলে ধর্ম, সমাজ, রাষ্ট্র, আগামী প্রজন্ম, মানুষের বংশধারা এমনকি স্বাভাবিক জীবন-যাপনও হুমকির মুখে পড়বে। তাই বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় পড়েছে সমাজের ধর্ম, দল, মত নির্বিশেষে সব মানুষ। ভূঁইফোড় এই ফেতনা নিয়ে কী ভাবছেন ইসলামী বিশেষজ্ঞরা? এই ফেতনা দমনে ইসলাম কী বলে? সমাজের করণীয়ই বা কী? এসব বিষয়ে কথা বলেছিলাম জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন’র সঙ্গে।

মুফতি মো. রুহুল আমিন বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের শ্রেষ্ঠ উম্মত বানিয়েছেন, সুন্দর অবয়বে আমাদের সৃষ্টি করেছেন। এ সুন্দর অবয়ব আল্লাহ প্রদত্ত আমানত ও নেয়ামত। এতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা কিংবা শরঈ বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে এ স্বাভাবিক অবয়বে কৃত্রিম উপায়ে বিকৃতি সাধন করা শয়তানি ফাঁদ এবং চরম ঘৃণ্য কাজ।

তিনি বলেন, আল্লাহতালা সৃষ্টিগতভাবে মানুষকে দুই ধরনের করে সৃষ্টি করেছেন হয়। এক. পুরুষ, দুই. নারী। তিনি কোরআনুল কারীমের মধ্যে বলেছেন, ‘আমি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি। এরমধ্যে তোমাদের কেউ নারী, কেউ পুরুষ।’ বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান বলছে, ‘নারী পুরুষের হরমোন, শারীরিক চাহিদা, মন-মানসিকতা সবকিছুই আলাদা। এমনকি নারী এবং পুরুষের ত্বকও এক নয় এর মধ্যেও ভিন্নতা আছে।’ আল্লাহতালা সৃষ্টিগতভাবে একজন মানুষ দুনিয়ায় আসার সময় থেকেই পার্থক্য করে দিয়েছেন। এই সৃষ্টিতে কেউ যদি বিকৃত সাধন করে তাহলে তার জন্য লানত। এটা জঘন্য হারাম।

‘খুব লজ্জার বিষয় হলো আমরা এমন এক সময় এখন বসবাস করছি, যখন একজন নারী যদি বলে সে পুরুষ তাহলে সে পুরুষ। যদি বলে আমি নারী তাহলে সে নারী। এটাই নাকি স্বাধীনতা। এটাকে তারা নাম দিয়েছে ট্রান্সজেন্ডারিজম। পশ্চিমা বিশ্ব স্বাধীনতার নামে ট্রান্সজেন্ডারের বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। আমাদের দেশেও একটি চক্র ট্রান্সজেন্ডার চালুর জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। ট্রান্সজেন্ডার ইসলামে নেই। বাংলা সাহিত্য, সংবিধানেও নেই। ট্রান্সজেন্ডার নামক পশ্চিমা বিশ্বের নোংরা পচা দুর্গন্ধ প্রথা এদেশের জনগণ খাবে না। ট্রান্সজেন্ডার পবিত্র কোরআন সুন্নাহর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যারা তথাকথিত ট্রান্সজেন্ডার নামক পাপাচারকে বিস্তার ঘটাতে চায় তাদের ওপর আল্লাহর লানত আসবে।’ যোগ করে জাতীয় মসজিদের খতিব

কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশ্ন আসতে পারে, ‘আমাদের সমাজে পুরুষ এবং নারীর বাইরে তো হিজড়াও আমাদের সমাজে বসবাস করছে। তাহলে তাদের বিষয়ে ইসলাম কি বলে?’ আসলে একজন শিশু যখন জন্ম গ্রহণ করে তখন ছোটবেলা থেকেই একেবারে বুঝা যায় না যে সে হিজরা হবে। শারীরিক বিভিন্ন কিছু অপূর্ণতার কারণে একসময় সে হিজড়া হয়ে যায়। তাদের বিষয়েও কিন্তু ইসলামের সুষ্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যে হিজড়ার শারীরিক গঠন, অবয়ব এবং চলাফেরা নারীর সঙ্গে বেশি সাদৃশ্য হবে সে নারীর হুকুম ও বিধি-বিধান সে মেনে চলবে। যার মধ্যে পুরুষের শারীরিক গঠন, অবয়ব এবং চলাফেরা প্রাধান্য দেখা যাবে সে শরীয়তের হুকুম-আহকাম মানার ক্ষেত্রে পুরুষের হুকুম-আহকাম মানবে।

‘ইসলামের নির্দেশনরা হলো, হিজড়া সামাজিক মর্যাদা পাবে। পারিবারিক মর্যাদা পাবে। সম্পত্তির ভাগ পাবে। তার জন্য অন্য স্বাভাবিক মানুষের মতোই সব অধিকার রয়েছে। তাছাড়া তাদেরকে আমাদের দেশেও সাংবিধানিকভাবে থার্ড জেন্ডার হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার নামক পাপাচার বিস্তারকারীরা এই থার্ড জেন্ডার এর সুযোগ নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সকল মুসলমানকে দল মত নির্বিশেষে সাবধান থাকতে হবে। ট্রান্সজেন্ডার মূলত সমাজে সমকামিতা প্রচারের লক্ষ্যেই নেমেছে। আর সমকামিতার মতো জঘন্য গোনাহের কারণে আল্লাহ তায়ালা ইতোপূর্বে অনেক জাতিকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা যদি আসমানি গজব থেকে বাঁচতে চাই, এই ফেতনাকে দমন করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’ উল্লেখ করেন মুফতি রুহুল আমীন

তিনি আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করার লক্ষে বলেণ, ধরেন কোনো পুরুষ হরমোন জনিত সমস্যার কারণে তার মাঝে শতভাগ পুরুত্ব নেই। ৮০ শতাংশ বা কমবেশি আছে। কিংবা একজন নারীর ক্ষেত্রেও এরকম যদি হয়ে থাকে। তাহলে সেই ক্ষেত্রে একজন নারী যদি হরমোনাল ট্রিটমেন্ট নিয়ে পুরোপুরি নারী হতে চাই বা একজন পুরুষ যদি হরমোনাল ট্রিটমেন্ট নিয়ে পুরোপুরি পুরুষ হতে চাই; তাহলে কোনো সমস্যা নেই। এটি সৃষ্টির মাঝে বিকৃত নয়। বরং এটিকে চিকিৎসার হুকুমে ধরা হবে। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার তথা বিশেষ অস্ত্রোপচার ও হরমোন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করে স্রষ্টার সৃষ্টিতে বিকৃতি করার বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

আগের সংবাদপাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে শপথ নিলেন পার্লামেন্ট সদস্যরা
পরবর্তি সংবাদবেইলি রোডে আগুন: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬