
ফাতেহ ডেস্ক:
চার বছরের শাসনামলে অসংখ্য অভিযোগের মুখে পড়েছেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যার অনেকগুলোই শিরোনাম হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল নারী কেলেঙ্কারি, রাশিয়ার সাথে গোপন আঁতাত এবং কর ফাঁকির অভিযোগ। বিদায়ের সময়ও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এসেছে ভোটের ফল গণনা নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের মধ্যেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন সাবেক মডেল অ্যামি ডরিস। এর পরপরই একই অভিযোগে সোচ্চার হন অন্তত ২৬ নারী। মুখ বন্ধ রাখতে পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে এক লাখ ৩০ হাজার ডলারের বিনিময়ে সমঝোতার অভিযোগও ছিলো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।
২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠে, নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচারে বিঘ্ন ঘটানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ বাড়ানোই ছিলো মস্কোর লক্ষ্য।
এসব কাজে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের সঙ্গে মস্কোর সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে তদন্ত প্রতিবেদনে। যদিও শেষ পর্যন্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয় প্রেসিডেন্ট যিনি অভিশংসনের মুখে পড়েন। ইউক্রেন প্রশ্নে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেয়ায় তাকে অভিশংসন করে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ। তবে উচ্চকক্ষ সিনেটে ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠে বিপুল পরিমাণ করফাঁকির অভিযোগও। অক্টোবরে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, দুই বছরে মাত্র ৭৫০ ডলার করে আয়কর দিয়েছেন তিনি। আর গত ১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছর আয়কর দেননি এক ডলারও। অবশ্য এই অভিযোগও যথারীতি উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। পরে বাইডেনের সঙ্গে বির্তকে বিষয়টি অস্বীকার করে লাখ লাখ ডলার আয়কর দেয়ার দাবি করেন তিনি।
২০২০-র নির্বাচনে ভোট গণনার প্রাথমিক পর্যায়েই নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন ট্রাম্প। আনেন ভোট কারচুপির অভিযোগ। ভিত্তিহীন মন্তব্যের কারণে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রচার বন্ধ করে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি, এবিসি ও সিবিসি।
সিএনএন ও ফক্স নিউজ সম্প্রচার অব্যাহত রাখলেও ট্রাম্পের দাবি মিথ্যা বলে বারবারই উল্লেখ করে। পরে ভোট কারচুপির অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি বলে জানান ফেডারেল ইলেকশন কমিশনার এলেন উইনট্রব।
