‘ঢাবিতে অন্যান্য মতাদর্শের প্রচার চলতে পারলে মুহাম্মদি মতাদর্শের প্রচার কেন চলবে না?’

ফাতেহ ডেস্ক

উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান–শায়খ আবুল হাসান আলী নদভী ইসলামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং সামাজিক ও মানবিক সংগঠন–পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের আমীর, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী বলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা মানে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করে ধর্মহীন রাজনীতির অনুমোদন দেয়া। অথচ পৃথিবীতে ইসলাম এসেছে মানবতার সামগ্রিক কল্যাণ সাধন এবং সর্বপ্রকার অকল্যাণ থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এসেছেন বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হয়ে। ঢাবি ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক তথা ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে মানবতার সেই কল্যাণ ও রহমতকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ করা হলো। এই হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ঢাবির ডাকসুর বর্তমান কর্তৃপক্ষ মানবতার কল্যাণ ও রহমতের ধর্ম ইসলাম ও তার নবীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলো।

তিনি আরো বলেন, ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নেই। এই হঠকারী সিদ্ধান্ত ডাকসুর গৌরবময় ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করবে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চর্চা নিষিদ্ধের এই সিদ্ধান্ত এদেশের ইসলামী জনতা কখনও মেনে নেবে না। প্রকৃতপক্ষে ধর্মহীন রাজনীতিই হলো মানুষের শোষণের অন্যতম হাতিয়ার। স্বাধীনতা পরবর্তী চার দশকে তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

মাওলানা ফারুকী প্রশ্ন রেখে বলেন, ঢাবিতে অন্যান্য মতাদর্শের প্রচার চলতে পারলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ সা. এর শান্তি ও মানবতার আদর্শের প্রচার কেন চলতে পারবে না—ঢাবি কর্তৃপক্ষকে তার জবাব দিতে হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল ২৬ শে সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান সংবাদ কর্মীদের এ তথ্য জানান।

আগের সংবাদ‘ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে আমাদের মতামতকে উপেক্ষা করে’
পরবর্তি সংবাদপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার অজুহাতে সৌদিতে মার্কিন সৈন্য ও সমরাস্ত্র বৃদ্ধি