
ফাতেহ ডেস্ক
অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডিকে তালিকা দেয়ার পাশপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেরাও ৯১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা অন্যকে সহায়তা করার। ডাকসুও সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুরাহা দাবি করেছে। ভিপি নুরের অভিযোগ জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া ছাত্রলীগের কয়েকজনও আছে।
ঘটনার শুরু ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে। ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক শিক্ষার্থী ভর্তি বাণিজ্য করেছেন।
তদন্ত শুরুর পর মিলে বিশাল চক্রের। তদন্তের গভীরে গেলে বের হতে থাকে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সন্দেহ হয় এসব শিক্ষার্থী নিজেরাও জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছেন কিনা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা নিজেরাও অভিযোগ খতিয়ে দেখেছেন। পরে ৯১ জনকে সনাক্ত করে তালিকা দেয়া হয় সিআইডিকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন তারা একটি চক্র, যারা এই প্রশ্ন বিক্রি করে তারা আরেকটি চক্র। এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া ৯১ জনের একটি তালিকা আমাদের কাছে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রক্রিয়া আছে এতে যদি প্রমাণিত হয় তারা জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়েছে তাহলে তাদের ছাত্রত্ব অবশ্যই বাতিল করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় বলছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১৩ জন। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, আইন, আর্ন্তজাতিক সম্পর্কসহ ২৩টি বিভাগের শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে আরো কয়েকজনের ব্যাপারে।
ডাকসুর ভিপি নুর বলছেন অভিযুক্তদের কয়েকজন ছাত্রলীগের। এজিএস সাদ্দাম বলছেন জালিয়াতদের কোন দলীয় পরিচয় নেই। এদের ভর্তি বহিস্কার না করলে আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।
ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, এই ৯১ জনের বেশিরভাগই ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন। এছাড়া ৭ জন ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতে রয়েছেন। এদের ভর্তি বাতিল করার জন্য আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করবো।
ডাকসু এজিএস সাদ্দাম হোসাইন বলেন, এই প্রশ্ন ফাঁস জালিয়াতিকে কেন্দ্র করে যে মাফিয়া সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তা ভেঙ্গে দিতে হবে। যে ৯১ জনের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে যদি প্রশাসন নমনীয় আচরণ করে, তাহলে আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও ভিসি বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
