
ফাতেহ ডেস্ক:
অবৈধ গ্যাস সংযোগে যে ন্যূনতম মানদন্ড মানা হয় না, তা তিতাসের অজানা নয়। তারপরও এসব সংযোগ উচ্ছেদে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তিতাস বলছে, রাজধানী ছাড়াও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ বিতরণ ব্যবস্থার প্রান্তগুলোতে অবৈধ সংযোগ সবেচেয়ে বেশি। যা থেকে অবৈধ আয় হচ্ছে অসাধু কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও।
শিরিরচালা গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই এমন গ্যাস সংযোগ রয়েছে, যার প্রতিটিই অবৈধ। গ্রামবাসী বলছে, ঝুঁকিপুর্ণ জেনেও নিরুপায় হয়েই তারা এই সংযোগ নিয়েছেন। অধিকাংশ সংযোগ থেকে গ্যাসে বের হওয়ার গন্ধ পাওয়া গেলেও গ্রামবাসীর মধ্যে কোন উদ্বেগ নেই। সংযোগ দেওয়ার টাকা নিয়েছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। কেউ কেউ এই পথও মাড়ায়নি। আর একবার সংযোগ নেওয়া হয়ে গেলে তাদের আর মাসে মাসে বিল দেওয়া দরকার পড়েনা।
এক গ্রামবাসী বলেন, ‘ধরেন আপনার ১০-১২ বিঘা সম্পত্তি আছে, আপনার পুরনো বাড়ি। পরে যদি ছেলে-মেয়েরা ভাগ করে নতুন বাড়ি করলে তারা তো তার বাবার বাড়িতে থাকা গ্যাস সংযোগটা নিতেই পারে। টাকা দিবে কেন?
আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘৫-৭ হাজার টাকা যায়। মাঝে মাঝে টাকা কেটে নেয়। মাঝে মাঝে টাকা দিয়ে আবার আনা হয়। এলাকার কয়েকজন এই সংযোগ দিয়ে গেছে।’
গাজীপুর সদরে শুধু এই একটি গ্রাম নয়, গ্রামের পর গ্রাম, ভাওয়াল গড় উপজেলার প্রায় সব গ্রামেই তিতাসের অবৈধ সংযোগ। তিতাসের লোকজনই এসব সংযোগের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সদস্যরাও অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেন।
এক অবৈধ ব্যবহারকারী ও জয়দেবপুর থানার ওসির ফোনো কথোপকথনে পাওয়া যায়: অবৈধ ব্যবহারকারী: স্যার আমার বাড়ির সঙ্গে আরেকটা বাড়ি আছে, ওদের দুইটা চুলা আছে। তাহলে ওরেও নিয়ে আসি।
ওসি: যারা বাকি আছে তারা দিয়ে দিলেই হয়ে যায়। বুঝেন নাই। অবৈধ ব্যবহারকারী: ঠিক আছে, স্যার।
শুধু গাজীপুরে অবৈধ সংযোগ আছে, এমনটা নয়। রাজধানী ঢাকার চারপাশের জেলা উপজেলার সব জায়গাতেই অবৈধ সংযোগ। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই কর্মকর্তারও। তিতাস গ্যাসের জিএম (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আবদুল ওয়াহাব তালুকদার বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁও এই বেল্টে বেশি। এই অবৈধ লাইনগুলো দ্রুত সরানো না গেলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এবং তার দায়ভার অবশ্যই তিতাসের ওপর পড়বে না। যারা অবৈধভাবে লাইন করেছে তাদের ওপরই দায়ভার পড়বে।’
অবৈধ সংযোগ কালেভদ্রে উচ্ছেদ হয়, নিয়মিত মামলাও হয়। তবে, তাতে অবৈধ সংযোগ থামেনা। মানহীন সংযোগে তিতাসের নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অঞ্চলেই আছে দুর্ঘটনা ঝুঁকি।
ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও লুটপাট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই সিস্টেমকে একটা অব্যবস্থাপনার মধ্যে রাখা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা, তিতাস ও বিআরসি সম্মিলিতভাবে জড়িত। ইন্সটিটিউশনালি এই ৪টা প্রতিষ্ঠানই দায়ী হবে।’
এক হিসাব বলছে, তিতাসের লাইন থেকে প্রতিদিন চুরি হয়ে যায় প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। যা বৈধ হলে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হতো প্রতিদিন ১২০ কোটি টাকা।
