
ফাতেহ ডেস্ক
রাজধানীতে গাছপালা এমনিতেই কম। এর ওপর নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গাছ কাটা পড়ছে। মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের কারণেও কাটা পড়েছে পল্লবী থেকে আগারগাঁও হয়ে বাংলামোটর পর্যন্ত সড়কের বেশকিছু গাছ। কর্তৃপক্ষ কাটাপড়া এসব গাছের পরিবর্তে তিন গুণ বেশি বিভিন্ন প্রজাতির ‘অর্নামেন্টাল’ বা সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ লাগিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কথা বলছে। তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, অর্নামেন্টাল নয়, দেশীয় গাছ লাগিয়েই সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি ক্ষতি পুষিয়ে দিতে হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সূত্র জানিয়েছে, মেট্রোরেল প্রকল্পের পল্লবী থেকে মিরপুর-১০ নম্বর হয়ে ফার্মগেট-বাংলামোটর পর্যন্ত এক হাজার ৬৫টি গাছ কাটা পড়েছে। তবে প্রকল্প এলাকায় বড় ধরনের কোনও গাছ কাটা পড়েনি। প্রকল্পের কাজ শুরুর সময় বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যেসব গাছ কাটা পড়বে তা নতুন করে লাগিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে যতদূর সম্ভব কমসংখ্যক গাছ কাটার পাশাপাশি কাটা পড়া গাছের তিন গুণ বেশি নতুন করে লাগিয়ে দেওয়ার শর্ত দিয়েছিল।
ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ঈদের পরেই মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে ডেকেছি। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে তাদের কী কী এগ্রিমেন্ট ছিল, সেগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা হবে।’ মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জানতে চাইলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়কদ্বীপে অর্নামেন্টাল গাছগুলো হয়। একে গাছ না বলে আমরা অন্যভাবে বলতে পারি। আমরা এর তিন গুণ বেশি গাছ লাগাবো। মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের নিচে গাছ লাগিয়ে দেবো এবং সেগুলো মেইন্টেন করবো।’
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়কে যেমনটা করা হয়েছে ঠিক তেমন করা হবে। দৃষ্টিনন্দনের ব্যবস্থা করবো।’ এটা অনেক সুন্দর হবে দাবি করে তিনি এ-ও বলেন, মেট্রোরেলের থ্রিডি যে নকশা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে সড়কদ্বীপে কোনও গাছের অস্তিত্ব দেখা যায়নি।
তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রকল্প এলাকায় যে পরিমাণ গাছ কাটা পড়েছে অতি দ্রুত সেসব গাছ না লাগালে পরিবেশে এর প্রভাব পড়বে। তাদের দাবি, সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ নয়, দেশীয় প্রজাতির বড় গাছ লাগিয়েই সড়কের সৌন্দর্য বাড়ানো যায়। এজন্য প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকা শহরে যে পরিমাণ গাছ ও পানি থাকা দরকার, সেই পরিমাণ নেই।’ গাছ কাটার ফলে এখন এলাকাভেদে তাপমাত্রার তারতম্য দেখা যাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের যেসব স্থানে উন্নয়নের কাজ চলে, সেখানে গাছ লাগানো-কাটার বিশাল কর্মযজ্ঞ চলে। যারা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা।’
আবদুস সোবহান বলেন, ‘এটা শুধু সিটি করপোরেশনের নয়, পরিবেশ অধিদফতরেরও দায়িত্ব রয়েছে। গাছ কেটে অর্নামেন্টাল গাছ লাগালেই চলবে না। দেশীয় গাছ লাগিয়ে সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন করতে হবে।’
