
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
তেল খাতের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পর্যটন খাত আরো মজবুত করে তোলার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সৌদি সরকার। ৪৯টি দেশের নাগরিকের জন্য নতুন পর্যটন ভিসা চালু করতে যাচ্ছে দেশটি। তবে ওই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে কিনা সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ভিসা চালুর ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে। খবর বিবিসি ও গাল্ফ নিউজ।
খবরে বলা হয়, এখন পর্যন্ত দেশটির ভিসা মূলত হজ পালনকারী, ব্যবসায়ী ও বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নতুন এই ভিসা বিদেশি পর্যটকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদেরও সৌদি পর্যটন খাতে অর্থ ঢালতে প্রলুব্ধ করবে বলে ধারণা সৌদি কর্মকর্তাদের। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যটন খাত থেকে দেশটির জিডিপির ১০ শতাংশ আয় হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল খতিব জানিয়েছেন, এটি সৌদি আরবের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ভ্রমণকারীরা আমাদের সম্পদ দেখে চমকে যাবেন। এর মধ্যে রয়েছে- পাঁচটি ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, একটি রঙিন সংস্কৃতি ও অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
এদিকে, নতুন ভিসার কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য দেশটিতে নারীদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে কর্তৃপক্ষ। আল খতিব জানান, এই ভিসায় সৌদিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিদেশি নারী পর্যটকদের আবায়া পরা বাধ্যতামূলক করা হবে না। তবে তাদের মার্জিত পোশাক পরতে হবে। যদিও পূর্বে নারীদের আবায়া পরা বাধ্যতামূলক ছিল। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের বন্ধু ও অতিথিরা ওই সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বজায় রেখে চলবেন।
তবে বজায় রাখা হবে পূর্বের একাধিক নিষেধাজ্ঞাও। অমুসলিম পর্যটকদের জন্য পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি অ্যালকোহলও নিষিদ্ধ রাখা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে নতুন ভিসা নিয়ে আরো তথ্য প্রকাশ করবেন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, বর্তমানে কেবলমাত্র বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকরা মুক্তভাবে সৌদিতে ভ্রমণের সুযোগ পান। সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটির আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকাগুলোর বর্ণনা দিয়ে একটি ওয়েবসাইট (whereintheworld.co) চালু করেছে।
