
ফাতেহ ডেস্ক
পবিত্র ওমরা পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবের মক্কাতুল মুকাররমায় ইন্তেকাল করেছেন চট্টগ্রামের বিখ্যাত দীনি শিক্ষাগার জামিআ দারুল মাআরিফের সহকারী পরিচালক ড. জসীম উদ্দীন নদভী। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন।
ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন ড. জসীম নদভী। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় গতরাত ৩টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। দারুল মাআরিফের সহকারী পরিচালকের পাশাপাশি তিনি ছিলেন দারুল মাআরিফের প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক আল্লামা সুলতান যওক নদভীর জামাতা ও স্নেহের পাত্র।
তাঁর ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম। হেফাজতে ইসলাম মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় বলেন, জসীম উদ্দীন নদভী ছিলেন আল্লামা সুলতান যওক নদভীর আশার আলো। তাঁর ইন্তেকালে সুলতান যওক নদভীর সঙ্গে আমি নিজেও অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। আল্লাহপাক তাঁর সকল দীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং এর বিনিময়ে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন। পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সবরে জামিল আতা ফরমান।
এদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় বলেন, ‘ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছে, সামাজিক, সদালাপী, অমায়িক, উদার ও স্বাপ্নিক এই আলেম ভাইটি এখন আর নেই। আমার জান্নাতবাসী (আল্লাহ তাঁর বান্দার সঙ্গে বান্দার আশা ও ধারণার অনুরূপ আচরণ করেন, এটা তিনি নিজে বলেছেন হাদিসে কুদসিতে) মা-বাবা রহ.-এর ইন্তেকালের পর থেকে আমি সীমাহীন কষ্টে আছি। আর এর মাঝে যখন আপনজনদের মরহুম হয়ে যাওয়ার সংবাদ আসে তখন মনটা হাহাকার করে উঠে। কিছুদিন আগে যিনি আমাকে ফোন করে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করলেন, উৎসাহিত করলেন, এগিয়ে যেতে বললেন তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। এ কথা ভাবতে গেলেই বুকটা কেঁপে কেঁপে উঠছে।’
মুফতী ফয়জুল্লাহ আরও বলেন, ‘সদালাপী, অমায়িক, উদার ও স্বাপ্নিক এই আলেমের ইন্তেকালে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। আমি তাঁর মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, তাঁর সহকর্মী, ছাত্র এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমাবেদনা জানাচ্ছি।
‘বিখ্যাত এই আলেমের জন্য আমরা মহান আল্লাহর শাহি দরবারে মুনাজাত করছি, আল্লাহ! আপনি আপনার এই প্রিয় আলেম বান্দাহকে রহমতের চাদরে আবৃত করে চিরস্থায়ী জান্নাতের মেহমান করে নিন। আমিন।’
