
রাকিবুল হাসান
দারুল উলুম দেওবন্দের সৌন্দর্যের প্রতীক, নান্দনিক ভবন ‘শাইখুল হিন্দ লাইব্রেরি’র নির্মাণ বিষয়ক যাবতীয় তথ্যাদি চেয়ে দেওবন্দের মুহতামিম, মুফতি আবুল কাসেম নো’মানী হাফিজাহুল্লাহ’র বরাবর আবার নোটিশ পাঠিয়েছে নগরপালিকা কমিশন। সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন করে দারুল উলুম দেওবন্দের নির্মাণাধীন এই ভবনের তদন্ত শুরু করেছে সাহারানপুরের ডিএম। ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত সকল শর্তাবলী সঠিক থাকা সত্ত্বেও নগরপালিকা কর্তৃক নোটিশ কেন্দ্র করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এবং মুসলমানদের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে । খবর মুম্বাই উর্দু নিউজের।
সাহারানপুরের ডিএম অলোক কুমার পাণ্ডে এক রিপোর্টে বলেছিলেন, ‘দারুল উলুম দেওবন্দে একটি বড় লাইব্রেরি নির্মাণ করা হচ্ছে। লাইব্রেরির উপর বানানো হচ্ছে ‘হ্যালিপ্যাড’।’
এই রিপোর্টের ভিত্তিতে গত ২৬ জুন দেওবন্দের মুহতামিম, মুফতি আবুল কাসেম নো’মানী হাফিজাহুল্লাহ’র বরাবর একটি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লাইব্রেরি’র নির্মাণ বিষয়ক আনুমতিপত্র, এনওসি ( অনাপত্তি পত্র) এবং হ্যালিপ্যাড সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যা জমা দিতে হবে। এরপর ৪ জুলাই এক লিখিত বক্তব্যে মুফতি আবুল কাসেম নো’মানী এতটুকু জানান, লাইব্রেরীর উপর কোন ‘হ্যালিপ্যাড’ বানানো হচ্ছে না।
কিন্তু সাহারানপুরের ডিএম পরবর্তী রিপোর্টে বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে লাইব্রেরি নির্মাণ বিষয়ক আনুমতিপত্র, এনওসি ( অনাপত্তি পত্র) এবং হ্যালিপ্যাড সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যা জমা দেয়নি দেওবন্দের মুহতামিম।
ডিএম’র উক্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে গতকাল ২০ জুলাই দেওবন্দের মুহতামিম বরাবর আবার নোটিশ পাঠিয়েছে নগরপালিকা কমিশন। এতে একটু কড়া ভাষায় বলা হয়েছে, যদি লাইব্রেরি নির্মাণ বিষয়ক আনুমতিপত্র, এনওসি ( অনাপত্তি পত্র) এবং হ্যালিপ্যাড সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যা জমা না দেয়া হয়, ১৯৫৮ সালের ‘আর বি ও’ আইন আনুযায়ী লাইব্রেরি নির্মাণ বন্ধ করে দেয়া হবে।
দেওবন্দের মুহতামিম, মুফতি আবুল কাসেম নো’মানী হাফিজাহুল্লাহ বারবার বলে আসছেন, যাবতীয় বিধি-নিষেধ মেনেই নির্মাণ করা হচ্ছে ভবন। সাহারানপুরের ডিএম যা তদন্ত করতে চায়, তাতে আমরা সাহায্য করবো।
উল্লেখ্য, অনেকদিনের শ্রম ও পরিকল্পনার পর ‘শাইখুল হিন্দ লাইব্রেরি’র নির্মাণে হাত দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি তদন্তের জেরে বিঘ্নতা ঘটছে এখন।
