দেশের পোশাকশিল্প খাতে বাড়ছে পুরুষের অংশগ্রহণ

ফাতেহ ডেস্ক:

দেশের পোশাকশিল্প খাতে নারীর অংশগ্রহণ কমছে, বাড়ছে পুরুষের অংশগ্রহণ। তবে সার্বিকভাবে পোশাক খাতে যে হারে কর্মসংস্থান হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না। প্রতিবছর গড়ে মাত্র ১ শতাংশ হারে শ্রমিক যোগ হচ্ছে। এই খাতে সবচেয়ে বেশি কাজ করছেন রংপুর ও ময়মনসিংহ জেলার মানুষ। আর মোট কর্মীর ১৬ শতাংশ বিদেশি।

এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট (এসিডি) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইনে ‘বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আর্থসামাজিক অবস্থা’ শীর্ষক এই জরিপের ফল প্রকাশ করেন এসিডির নির্বাহী পরিচালক এ কে এনামুল হক। তিনি জানান, জরিপের কাজটি শুরু হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। দৈবচয়নের ভিত্তিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১৬০টি পোশাক কারখানার ওপর জরিপটি করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলার কারখানা ১২৯টি, বাকি ৩১টি চট্টগ্রামের।

নিটওয়্যার, ওভেন ও সোয়েটার—এই তিন ক্যাটাগরি বা শ্রেণিতে কাজ করেন, এমন ১ হাজার ১১৯ জনের ওপর জরিপটি করা হয়।
১৬০ কারখানায় প্রথম গ্রেড থেকে সপ্তম গ্রেডের শ্রমিকদের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে এসিডি পোশাক খাত নিয়ে প্রথম জরিপ করেছিল।

জরিপ অনুযায়ী সার্বিকভাবে বাংলাদেশে পোশাক খাতের মোট জনবলের ১৬ শতাংশ বিদেশি। কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে চিত্রটি এ রকম—ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ ৮৪ শতাংশ, কারিগরি কার্যক্রমে ১৬ শতাংশ ও মার্চেন্ডাইজিংয়ে ৮ শতাংশ বিদেশি। পোশাকশ্রমিকদের ৩৫ শতাংশ মাধ্যমিক পাস। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে যুক্ত হয়েছেন ২৩ শতাংশ। স্নাতক বা স্নাতক সম্মান পাস করে এসেছেন ৩ শতাংশ। আর কারিগরি পড়াশোনা করে ঢুকেছেন মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

জরিপ বলছে, বাংলাদেশে পোশাক কারখানাগুলো মূলত ঢাকা ও আশপাশের জেলা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। কিন্তু যেসব জেলায় কারখানা অবস্থিত, সেখানকার মানুষের পোশাক কারখানায় অংশগ্রহণ নামমাত্র। ৮৯ শতাংশ শ্রমিকই অন্য জেলা থেকে আসা। সবচেয়ে বেশি শ্রমিক রংপুর ও ময়মনসিংহ জেলার।

আগের সংবাদফিলিস্তিনে ইজরাইলি যুদ্ধাপরাধের তদন্ত: মার্কিন বিরোধিাতার নিন্দায় হামাস
পরবর্তি সংবাদচালু হল ভ্রাম্যমাণ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর