দেশে ফিরলেন মাওলানা আজহারী, যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর দেশে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন আরেক আলোচিত ইসলামিক বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি লিখেছেন, ‘স্বাগতম। আপনার এই প্রত্যাবর্তন বরকতময় হোক। দীন ও দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক।’

এর আগে, বুধবার (২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার কথা জানান মিজানুর রহমান আজহারী।

পেজে দেয়া ওই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সালামাতে প্রিয় মাতৃভূমিতে এসে পৌঁছালাম। পরম করুণাময় এই প্রত্যাবর্তনকে বরকতময় করুন।’

মিজানুর রহমান আজহারী ২০২০ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। গত আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরার ঘোষণা দেন তিনি। তখন তার ফেসবুক পেজে লিখেন, ‘অনেকে আমাকে মেসেজ করে ও ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে জানতে চেয়েছেন, আমি কবে দেশে ফিরব। আমি তাদের বলতে চাই, আমি দ্রুতই দেশে ফিরব। আপনাদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষাতে রয়েছি আমি নিজেও। শিগগির সাম্য, মানবিকতার মুক্ত-স্বাধীন, বাংলাদেশে আমি আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই।’

তিনি আরও লেখেন, ‘তাজা রক্তের মাধ্যমে যারা আন্দোলনকে সফল করেছেন সেই শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ও রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং এখনো কষ্ট করে যাচ্ছেন তাদের শুভেচ্ছা জানাই।’

২০২০ সালে আজহারী মালয়েশিয়া চলে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর তাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সে বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘পারিপার্শ্বিক কিছু কারণে এখানেই এবছরের তাফসির প্রোগ্রামের ইতি টানতে হচ্ছে। তাই, মার্চ পর্যন্ত আমার বাকি প্রোগ্রামগুলো স্থগিত করা হল। রিসার্চের কাজে আবারও মালয়েশিয়া ফিরে যাচ্ছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুযোগ করে দিলে আবারও দেখা হবে ও কথা হবে ইনশাআল্লাহ।’

এরপর থেকে তিনি বাংলাদেশে আর কোনো ওয়াজ মাহফিলে যাননি।

তিনি গবেষণার কাজে মালয়েশিয়া গেছেন বলে ওই পোস্টে উল্লেখ করলেও হঠাৎ চলে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল নানা মহলে। এর কারণ হিসেবে তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে লক্ষ্মীপুরে তার এক মাহফিলে ১২ জন ভারতীয় নাগরিকের ধর্মান্তরের ঘটনা আলোচনার সৃষ্টি করে। লক্ষীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পানপাড়া গ্রামে আজহারীর মাহফিলে একই পরিবারের মোট ১২ জন সদস্য এক সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করা আলোচিত এই হিন্দু পরিবারটি এসেছিল ভারত থেকে। বাংলাদেশ পুলিশ ১২ জনকেই আটক করে ভারতে ফেরত পাঠায়।

অপরদিকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও লোকসমাগমের কারণে বিভিন্ন জায়গায় তাকে ওয়াজ-মাহফিল করতে বাধা দেয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। তখন সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আজহারীকে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ তোলেন; যা নিয়ে তখন ব্যাপক হইচই হয়েছিল। সব মিলিয়ে অনেকে ধারণা করেছিলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে মিজানুর রহমান আজহারী দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।

আগের সংবাদপ্রয়োজনে জামায়াতের সাথে এক হয়ে কাজ করবো : মুফতী ফয়জুল করীম
পরবর্তি সংবাদছয় মাসে কুরআনের হাফেজ হলো ১০ বছরের এমদাদ