
ফাতেহ ডেস্ক:
মিউজিক ছাড়ার ঘোষণা দিলেন গিটারিস্ট মুহাম্মদ ইমরান উদ্দীন। আজ এক ফেসবুক পোস্টে তিনি মিউজিক ছাড়ার বিস্তারিত ঘোষণা দেন। নীচে তার পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো—
আমাকে আর স্টেইজে গিটার হাতে দেখা যাবেনা। আমি সকল প্রকার হারাম ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন হেদায়েত দান করুন।
আমি ইমরান, আমি গত প্রায় ১০ বছর ধরে মিউজিক নামক হারাম কাজের সাথে সংযুক্ত ছিলাম। আসলে কিভাবে কি লিখবো বুঝে উঠতে পারছিনা চোখের পানিতে লিখতে কষ্ট হচ্ছে। কারণ মিউজিকটা আমার রক্তের সাথে মিশে আছে। নিজের একাকিত্বের সময়টাতে আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলো আমার গীটার। আর্থিক সংকটকালীন সময়েও মিউজিক থেকে অনেক টাকা উপার্জন করেছিলাম আমি।
তবে আর নাহ; যেভাবেই হোক আমার আলোর পথে আসতে হবে এই দুনিয়ার লোভ লালসা থেকে নিজেকে বের করে আনতে হবে। আমি এক ভুলের প্রেমে মশগুল হয়ে আছি। আমি ভুল থেকে বের হয়ে আখিরাতের মাঠে একজন পরিপূর্ণ ইমানদার হিসেবে দাঁড়াতে চাই। সকল মিথ্যার অবসান ঘটিয়ে দ্বীনের পথের পথিক হতে চাই। আমি এখনো জানিনা আমার কি করা লাগবে? নামাজ, রোজা, কুরআনের আলোতে কিভাবে নিজেকে আলোকিত করতে হবে। শুধু এইটুকু জানি আমি একজন মুসলমান এবং আমার আল্লাহর প্রতি আমার কিছু দায়িত্ব আছে।
মিউজিক শুরুর কয়েক বছর পর থেকেই আমি একটা ব্যাপার প্রায় অনুভব করতাম যে একপ্রকার শারীরিক, মানসিক ও পারিবারিক সমস্যা আমার সাথে লেগেই থাকতো। একটা সমাধান করি তো আরেকটা মাথার উপর এসে ভর করতো। বিগত বছরে কাজ করা আমার ব্যান্ড মেম্বাররা জানে আমি প্রায় তাদের কাছে আমি আমার সমস্যার কথা বলেই যেতাম অনেকে মনে করতো আমি প্রাক্টিস ফাকিবাজির জন্য উসিলা দেখাতাম। নাহ আমি আসলেই সমস্যার মধ্যে থাকতাম। আমি শুধু মাত্র মিউজিক নাহ সকল প্রকার হারাম থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছি।
কাউকে অনুসরণ বা অনুকরণ করে নয় বরং নিজের মধ্যেই একপ্রকার উপলব্ধি হয়েছে যে, আমার ইমানের জোর কমে যাচ্ছে। আমার নামাজ কালাম ও ইবাদাতের উপর আসক্তি কমে যাচ্ছে। মিউজিকের উপার্জন ছিলো সম্পূর্ণভাবে হারাম। যা আমি আহার হিসেবে আমার পরিবারকে খাইয়েছি। বর্তমানে আমার কোনো চাকুরী নাই, ছোটখাটো ব্যাবসা গুলোও বন্ধ। জানিনা কিভাবে আমার সংসার চলবে। তারপরেও আমি হারাম থেকে বের হয়ে আসতে চাই।মরার পর খালি হাতে যেতে চাইনা। এখনো মনে হচ্ছে কিছুটা সময় আছে পরিপূর্ণ ইমান সাথে নিয়ে কবরে যাওয়ার।
দোয়া করবেন আমার জন্য আমার পরিবারের জন্য।
