
আবু জর
আগুন যেন পিছু ছাড়ছেই না বাংলাদেশের৷ আগুনে পুড়ে যাচ্ছে মানুষের জীবন ও জীবিকা। চুড়িহাট্টা, বনানী হয়ে গুলশান। তাও আবার একই দিনে দুই জায়গায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিনিয়তই জ্বলছে কিছু না কিছু৷ কোথাও বাড়িঘর, অফিস, আদালত, মিল-ফ্যাক্টরি অথবা অন্যকিছু। সমগ্র দেশটাই, বিশেষত ঢাকা শহর যেন পরিণত হয়েছে একটি জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে। কোথাও আস্থা রাখতে পারছে না শহরের অধিবাসীরা। সর্বদাই আগুনের ভয় তাড়া করে ফিরছে সবাইকে।
বর্তমান বিশ্বে সকল ঘটনারই একটা বড় প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ সকলেই এখানে নিজস্ব অভিব্যক্তি প্রদান করেন৷ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগা নিয়েও ফেসবুকে দেখা গেছে ঝড়। মনের ক্ষোভ, দুঃখ, হতাশা ব্যক্ত করেছেন সকলে৷ মন্তব্য করেছেন ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠিও। তরুণদের মধ্যে কেউ কেউ ঢাকা শহর পরিত্যক্ত ঘোষণা করার দাবি উত্থাপন করেছেন৷ তাঁদের ভাষ্যমতে, ঢাকা বসবাস উপযোগিতা হারিয়েছে বহু আগেই। ‘এই শহর এখন আর বসবাসের উপযোগী নয়। এই শহরের বাতাসে বিষ, পানিতে বিষ, পথে পথে অ্যাক্সিডেন্ট, দালানে দালানে অগ্নিকাণ্ড, ঘরে বসে থাকলেও মানুষ রোগবালাইয়ে মারা যায়। কেবল মানুষ হত্যার জন্য একটা শহরকে রাজধানী করে রাখা চরমতম অন্যায়।’ বলছিলেন তরুণ এক অনলাইন এক্টিভিস্ট।
রাষ্ট্রের অবহেলা ও প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতি ইঙ্গিত করেই এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
বর্ষীয়ান আলেমদের কেউ কেউ এসব বিপদাপদ রাষ্ট্র ও জনসাধারণের অসচেতনতা, দুর্নীতি এবং অবহেলার পাশাপাশি আল্লাহপাকের অসন্তুষ্টির কারণেও আপতিত হয় বলে মনে করেন৷ কেউ কেউ বলেন, এসব ঘটনা মানুষের পাপাচার ও দীন থেকে বিমুখ হওয়ার ফলে ঘটে থাকে৷ আলেমদের কেউ কেউ জনমানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং সব ধরণের দুর্নীতি দূর করার পাশাপাশি এসব দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণের আরও একটি উপায় সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। তাঁরা বলেন, আমাদের মহানবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মানুষের দৈনন্দিন কাজের প্রতিটা ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা দোআ শিখিয়ে দিয়েছেন। যেমন ঘর থেকে বের হওয়া, ঘরে প্রবেশ করা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসা, যানবাহনে আরোহণ করা—প্রতিটা ক্ষেত্রেই আলাদা আলাদা দোআ আছে। আছে বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় পতিত হলে পড়ার দোআও। তো একজন মুসলিম হিসেবে যদি পূর্ণ বিশ্বাস ও নিষ্ঠা নিয়ে এসব দোআর ওপর কেউ আমল করে, তবে সে নিজের জানের নিরাপত্তাসহ যে-কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হওয়া থেকে বাঁচতে পারবে। এবং এটা পরীক্ষিত।
অগ্নিকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় জনসাধারণের বড় একটা অংশের মাঝে দেখা গেছে প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা ও ক্ষোভ। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট তরুণ আলেমদের কেউ কেউ বলছেন, এই সব আগুন লাগার ঘটনাগুলো সিরিজ কোনো প্ল্যানের অংশ কি না খোঁজ নেওয়া উচিত।
বস্তুত বিষয়টি যেন তেমনিই। একেকটা ভবনের পুড়ে যাওয়ার পর উড়ে যাওয়া ধোঁয়ার সাথে হাজার মানুষের আশা কর্পুরের মতো উড়ে যায়, কেউ তার খবর রাখছে না৷ রাষ্ট্রও না, প্রতিষ্ঠানও না৷ এ থেকেই সন্দেহ ঘনিভূত হয়, সত্যিই কি এই ঘটনাগুলি প্রাকৃতিকভাবে ঘটছে, নাকি কারও দুষ্ট ইশারায় ঘটানো হচ্ছে এসব?
সবশেষে সকলেরই একান্ত চাওয়া, এ ধরণের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না ঘটুক। ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পেছনে কী ছিল খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। আর একটি প্রাণও যেন দুর্ঘটনায় নির্মমভাবে ঝরে না পড়ে।
