
ফাতেহ ডেস্ক:
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদী জনতার বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ও দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজাটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ।
আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কট্টর হিন্দুত্ববাদি বিজেপি সরকার ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতেই সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা মনে করি, মোদি-অমিত শাহ সরকারের এই উদ্যোগ ভারতীয় সংবিধান পরিপন্থী এবং ভারতে ধর্মীয় বহুত্ববাদ ও আন্তসংস্কৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা এই কালো আইনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, পুরো ভারত যখন অর্থনৈতিক মন্দায় ধোঁকছে, তখন জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে মোদী সরকার এই কালো আইনকে হাতিয়ার করে ভারতজুড়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়িয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু তারা ভারতের জনগণকে ধোঁকায় ফেলতে পারেনি। বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদি জনতা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মাঠে নেমেছে। পুলিশ গণহারে গ্রেফতার করে, গুলি চালিয়েও সেই আন্দোলন দমাতে পারছে না। আন্দোলনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিতর্কিত আইনের নতুন ব্যাখা দিয়েছেন। আমরা মনে করি, এই ব্যাখা গণআন্দোলন দমানোর নতুন কৌশল। আন্দোলন থেমে গেলে বিজেপি সরকার পূর্বপরিকল্পিত কালো আইন ঠিকই বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের মুসলমান বিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক এই আইনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে স্বাধীনতার জন্য জন্য রক্ত দেয়া ভারতের মুসলমানরা। ভারতীয় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়ে সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ভারত সরকারকে অবিলম্বে এই বিতর্কিত আইন বাতিলের দাবী জানাচ্ছি। একই সাথে এনআরসির নামে ভারতজুড়ে মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন করার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে সকল ধর্মমতের মানুষের জন্য নিরাপদ ভারত গড়ার আহবান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়কে ভারতের উপর চাপ বৃদ্ধির আহবান জানাচ্ছি।
