আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের বহুল বিতর্কিত ও মুসলিম-বিরোধী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বাস্তবায়নের পর অভিবাসীদের সীমান্তের ওপারে পাঠানো হবে না মর্মে নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে লিখিত আশ্বাস চেয়েছে বাংলাদেশ। বেশ কয়েকটি সূত্র দি প্রিন্টকে বিষয়টি জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সাউথ এশিয়ান মনিটর।
সূত্রের বরাতে সাউথ এশিয়ান মনিটর জানায়, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে নয়া দিল্লির প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘নমনীয়’ বলে অব্যাহত সমালোচনার মুখে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো।
আসামে এনআরসি করার পর অক্টোবরে শেখ হাসিনা যখন ব্যক্তিগত সফরে ভারতে গিয়েছিলেন, তখনও একই দাবি করেছিল বাংলাদেশ সরকার। কূটনৈতিক সূত্রগুলো দি প্রিন্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ওই সময় বাংলাদেশকে ভারত মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছিল যে আসামে এনআরসির আওতায় ‘বিদেশী’ ঘোষিত কাউকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে না। তবে ভারত লিখিত আশ্বাস দিতে অস্বীকার করে বলেছিল যে এটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় করা হচ্ছে।
তবে চলতি মাসে পার্লামেন্টে সিএএ পাস হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মনে নতুন করে উদ্বেগ চেপে বসে যে ভারত হয়তো ওই আইনের বলে অবৈধ বিবেচিত মুসলিমদেরকে সীমান্তের পারে ঠেলে দেবে।
এবার ভারত সরকারের কাছে আদালতের কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় লিখিত আশ্বাস দেয়া কঠিন হবে না বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে তারা জানিয়েছেন, ভারত সম্ভবত এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে কোনো আশ্বাস না দিলেও ভবিষ্যতে তা দিতে পারে।
সিএএ অনুযায়ী পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ছয়টি অমুসলিম সম্প্রদায়কে ভারতের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। এই আইনের ফলে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয় এই আশঙ্কায় যে মুসলিমদেরকে টার্গেট করেই এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকার বলছে, এনআরসি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
