নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার নিন্দা জানিয়ে যা বললেন বিশ্ব মুসলিম নেতারা

ফাতেহ ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে খ্রিষ্টান জঙ্গিদের হামলায় ৪৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার নিন্দা জানিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশ্ব মুসলিম নেতারা।

টুইটবার্তায় এ হামলাকে ইসলামফোবিয়ার ফল অভিহিত করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, নৃশংস এ হামলার মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হয়েছে যে সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। সন্ত্রাসবাদকে কখনো ধর্মের সঙ্গে মেলানো উচিত নয়। যা আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি।

ইমরান খান আরো বলেন, ৯/১১-এর পর থেকে ইসলামফোবিয়ার যে বিস্তার ঘটেছে, তার কারণে এতদিন যে-কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অপবাদ মুসলমানদের দেওয়া হয়েছে। এখন যে মুসলমানদের ওপর নৃশংস হামলা হয়েছে, তা ওই ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবেরই ফসল।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান ইমরান খান।

হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই এর কড়া নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনাকে বর্ণবাদী ও ফ্যাসিবাদী হামলা বলে অভিহিত করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। তিনি বলেন, এই হামলা প্রমাণ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। এর আগেও আমরা দেখেছি ইসলামভীতি কেমন বিকৃত ও খুনে মানসিকতার জন্ম দেয়। এ ধরনের মানসিকতার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত।

এরদোগান বলেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা অলসভাবে দেখছে বিশ্ব। এই মুসলমানদের যে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করা হতো, ক্রাইস্টচার্চের আল-নুর মসজিদের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সীমা ছাড়িয়ে তা গণহত্যায় রূপ নিয়েছে।

মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আল্লাহ নিশ্চয়ই নিহতদের ক্ষমা করে দেবেন। আহতদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সহায়তা প্রয়োজন।

এ ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়াও। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেছেন, ‘আমরা এই ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।’

এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বলেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়া সরকার হত্যার শিকার ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে।’

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ আশা করছেন নিউজিল্যান্ড শিগগিরই এসব সন্ত্রাসীকে  আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এ ছাড়াও এ ঘটনায় আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়ার বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতাসীন জোট পাকাতান হারাপানের খ্যাতনামা নেতা আনোয়ার ইবরাহিম বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চ সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে মালয়েশীয়দের হৃদয়।

বিশ্ব মানবতা ও শান্তির জন্য এটাকে এক ট্র্যাজেডি হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।

আগের সংবাদ‘নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলামোফোবিয়ার ব্যাপক বিস্তারের প্রমাণ’
পরবর্তি সংবাদআদালতে দাঁড়িয়েও হাসছে জঙ্গি টারান্ট