
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদে খ্রিষ্টান সন্ত্রাসীদের নৃশংস ও এলোপাতাড়ি গুলিতে এ পর্যন্ত চার বাংলাদেশি নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এখনও আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। সর্বমোট নিহতের সংখ্যা এ পর্যন্ত অর্ধ শ্ত ছাড়িয়ে গেছে।
নিহত চারজনের নাম-পরিচয় ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন হলেন ড. আবদুস সামাদ। ক্রাইস্টচার্চে লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্বের একজন শিক্ষক ছিলেন ড. আবদুস সামাদ। এর আগে তিনি বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিষয়ে শিক্ষকতা করতেন। আল নূর মসজিদে তিনি মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন। তার বাড়ি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্লা গ্রামে।
দ্বিতীয় জন হোসনে আরা ফরিদ। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষিপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গাঁলহাটা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন হোসনে আরা ফরিদ। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। সেবছর বিয়ের পরই তিনি স্বামীর সাথে নিউজিল্যান্ডে চলে যান। এরপর থেকে সেখানেই থাকতেন। স্বামী ফরিদউদ্দিন বেশ কয়েক বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন। এরপর থেকেই তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। হামলার সময় তারা দুজনেই আল-নুর মসজিদে ছিলেন।
তৃতীয় জন ডা. মোজাম্মেল হক। ডা. মোজাম্মেল হক ঢাকার নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন। বাংলাদেশে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে বিডিএস পাস করেছেন। এরপর ডেন্টিস্ট্রির উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলেন।
এ ছাড়া আহত অবস্থায় আছেন আরও ১০ বাংলাদেশি। প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। এ ছাড়া এ ঘটনায় আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশে লাশ আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এইচ আর/
