নির্বাচনে নতুন জোটে ওয়াইসি, মুসলিমদের নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নতুন জোটে অংশ নিয়েছেন ভারতের মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। জোটের নাম ‘গ্র্যান্ড ডেমোক্রেটিক সেক্যুলার ফ্রন্ট’।

বৃহস্পতিবার বিহারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের ঘোষণা করেছে উপেন্দ্র কুশওয়াহার দল আরএলএসপি, আসাদউদ্দিন ওয়াইসির ‘মিম’, মায়াবতীর বিএসপিসহ চার দল। জোট থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হয়েছে উপেন্দ্র কুশওয়াহকে।

ওয়াইসি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এমন দিনও আসবে যখন কোনও মুসলিমকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হবে। এখন নেতৃত্ব তৈরি করা দরকার। আমাদের দলের নেতারা যখন জয়লাভ করবেন, তখন একটি প্ল্যাটফর্ম পাওয়া যাবে এবং সেখান থেকে যাত্রা শুরু হবে। আমরাও সেটাই করছি। আমরা তৃণমূলস্তরে নেতৃত্ব তৈরি করতে যাচ্ছি। আমরা বিহারে এটা প্রয়োগ করছি। আমরা সকলেই বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে কুশওয়াহা সাহেবই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন।’

ওয়াইসি আরও বলেন, ‘বিহারে নীতীশ কুমার এবং বিজেপি’র ১৫ বছর এবং আরজেডি-কংগ্রেসের ১৫ বছর শাসন করার পরেও দরিদ্ররা উপকৃত হয়নি। রাজ্য এখনও সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। আমরা বিহারের ভবিষ্যতের জন্য এই জোট গঠন করেছি এবং আমরা সাফল্যের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’

বিহারে মুসলিম জনসংখ্যা ১৬.৮৭ শতাংশ। অন্যদিকে, যাদব সম্প্রদায়ের সংখ্যা ১৪ শতাংশের কাছাকাছি। মাত্র ৪ শতাংশ রয়েছেন কূর্মি সম্প্রদায়ের মানুষজন। আরজেডি নেতা লালুপ্রসাদ যাদব ও তাঁর পরিবার বিহারে ১৫ বছর ধরে শাসন ক্ষমতায় ছিলেন। অন্যদিকে, জেডেইউ নেতা নীতিশ কুমার গত ১৫ বছর ধরে বিহারে ক্ষমতায় আছেন। তিনি কূর্মি সম্প্রদায়ের মানুষ। এই ১৪ শতাংশ ও ৪ শতাংশের মানুষজন বিহারের ক্ষমতায় ৩০ বছর ধরে থাকলেও রাজ্যে কমপক্ষে ১৭ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ থাকা সত্ত্বেও মুসলিমদের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী না করে ৬ শতাংশের কুশওয়াহ সম্প্রদায়ের আরএলএসপি নেতা উপেন্দ্র কুশওয়াহকে এবার বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিহারে ২৪৩ আসনের আগামী ২৮ অক্টোবর, ৩ ও ৭ নভেম্বর তিন দফায় নির্বাচন হবে। ১০ নভেম্বর ফল ঘোষণা হবে।#

 

আগের সংবাদআফগানিস্তান থেকে এখনই যাচ্ছে না ন্যাটো সামরিক জোট
পরবর্তি সংবাদআসামে সরকারি মাদরাসা বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিজেপির