
ফাতেহ ডেস্ক
নুসরাত হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়, আসামি নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামিম। বাকিরা নানাভাবে তাদের সহায়তা করে। ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তারা জানায়, অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশেই নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় চারজন। এদিকে, নুসরাত হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন সহপাঠী জান্নাতুল আফরোজ মনিকে মাদ্রাসা থেকে আটক করেছে পিবিআই।
সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে কিভাবে নুসরাতকে হত্যা করা হয়েছে? আরো কারা জড়িত? মিলেছে সেসব প্রশ্নের উত্তর। মামলার অন্যতম দুই আসামি নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামিমের জবানবন্দিতে অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আদালতের কাছে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে দেয়া জবানবন্দিতে নূর উদ্দিন ও শামিম জানায়, ৪ এপ্রিল কারাগারে গিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজের কাছ থেকে হত্যার নির্দেশ পায় তারা। এর পরদিন মাদ্রাসার পাশের পশ্চিম হোস্টেলে বৈঠক করে তারা। সেখানেই রাফিকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত হয়, যা বাস্তবায়ন হয় ৬ এপ্রিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগেই এক লিটার কেরোসিন কিনে ঘটনাস্থলে যান শাহাদাত।
শাহাদাত জানায়, পপির বান্ধবী কামরুন্নাহার মণিকে দুই হাজার টাকা দিয়ে বোরকা ও হাতমোজা সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো তারা রেখে আসে ঘটনাস্থল শেল্টার হাউসের তিন তলার ছাদে।
শাহাদত আরো জানায়, ঘটনার দিন ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা শুরুর আগেই তারা উম্মে সুলতানা পপির সাহায্যে কৌশলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নেয়। এরপর কথা বলার এক ফাঁকে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় শাহাদত।
নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার সময় নূর উদ্দিন ও হাফেজ আবদুল কাদেরসহ পাঁচজন গেটে পাহারায় ছিল বলেও জবানবন্দিতে জানায় শাহাদাত। কাজ শেষে বাইরে গিয়ে শাহাদাত, পুরো বিষয়টি ফোনে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনকে জানায়।
