
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদরাসা চালু করা হয়েছে। মাদরাসাটি চালু করেছেন রানী খান নামের একজন হিজড়া। খবর এনডিটিভির।
মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ৩৪ বছর বয়সী রানী খান বলেন, বেশির ভাগ পরিবারই হিজড়াদের ঘর থেকে বের করে দেয়। তাদের ওপর অত্যাচার করা হয়। একসময় আমি নিজেও তাদের মতো কষ্টভোগ করেছি। আমার পরিবার আমাকে ১৩ বছর বয়সে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমাকে বেঁচে থাকার জন্য ভিক্ষে করতে হয়।১৭ বছর বয়সে আমি একটি হিজড়া দলের সঙ্গে ভিড়ে যাই। গ্রুপটি বিয়ের উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ গান করে টাকা সংগ্রহ করত। কিন্তু আমার মনে সব সময় একটা স্বপ্ন ছিল- তিনি নিজের সমজাতীয়দের জন্য কিছু একটা করবো।
রানী জানান, যখন পরিবারের সঙ্গে ছিলেন তখন তিনি কোরআন পড়তে শিখেছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে নিজে মাদরাসা খোলার আগে দেশের মাদরাসাগুলোতেও যাতায়াত করেন তিনি।
রানী বলেন, আমি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য মাদরাসা খুলেছি। এখানে আমার শ্রেণির মানুষের জন্য কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তারা এখানে নামাজ পড়তে পারবে এবং বিগত জীবনের ভুল বা পাপের জন্য আল্লাহর কাছে অনুশোচনা করতে পারবে।
রানীর মাদরাসাটি পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে কোনো অনুদান পায়নি। অবশ্য কিছু কিছু কর্মকর্তা এখানকার ছাত্রদের সহযোগিতা করবেন এবং তাদের চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শুধু কোরআন শিক্ষা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন না রানি খান। তিনি তার ছাত্রদের এম্ব্রয়ডারি, সেলাইসহ নানা হাতের কাজে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে ছাত্ররা মাদরাসা ছাড়ার পর নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। কাপড়চোপড় বিক্রি করে তিনি স্কুলের জন্য তহবিলও গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন।
পাকিস্তানে হিজড়াদের ২০১৮ সালে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের ভোটাধিকার এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেরে জেন্ডার বেছে নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানে ২০১৭ সালের আদমশুসমারি অনুযায়ী হিজড়াদের সংখ্যা এক লাখ। তবে একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমানে এ সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
